রাজধানীর ধানমন্ডির বজুঁর ব্যাংকোয়েট হলে ১৯ জুলাই আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দশ বছরের পথচলার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেল আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্প (এএমটিসি)। প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনিতে এক মিলনমেলা তৈরি হয় বিভিন্ন ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের। মডেলিং, পেজেন্ট্রি ও প্রেজেন্টিংয়ে দক্ষতা অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয় এই অনুষ্ঠানে।
২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করা এএমটিসি মূলত তরুণদের ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস ও পেশাদার মানসিকতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। সময়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি মডেলিংয়ের পাশাপাশি প্রেজেন্টিং ও পেজেন্ট্রি কোর্স চালু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি 'মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ', 'মিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ', 'মিস কসমো বাংলাদেশ', 'মিস্টার কসমো বাংলাদেশ' এবং 'ফেস অব বাংলাদেশ'-এর লাইসেন্সধারী হিসেবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মডেল, নৃত্য ও অভিনয়শিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ফ্যাশন এন্টারপ্রেনারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) প্রেসিডেন্ট ও সাদা কালোর সহপ্রতিষ্ঠাতা আজহারুল হক আজাদহাল এবং হাল ফ্যাশন, প্রথম আলোর কনসালট্যান্ট শেখ সাইফুর রহমান। প্রতিষ্ঠাতা আজরা মাহমুদের সঙ্গে তারা গ্র্যাজুয়েটদের সনদ প্রদান করেন।
এএমটিসির প্রতিষ্ঠাতা আজরা মাহমুদ বলেন, 'এক দশক আগে একটি কল্পনা নিয়ে পথচলা শুরু হয়েছিল—তরুণদের এমন একটি প্ল্যাটফর্ম দেওয়ার, যেখানে তারা নিজেদের সম্ভাবনা আবিষ্কার করতে পারে। আজ সব ব্যাচের গ্র্যাজুয়েটদের একসঙ্গে দেখে মনে হচ্ছে সেই কল্পনা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। এই অর্জন শুধু আমার নয়, বরং প্রতিটি শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীর।'
প্রধান অতিথি সাদিয়া ইসলাম মৌ তাঁর বক্তব্যে বলেন, একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষই জীবনের যেকোনো মঞ্চে সফল হতে পারেন। গত এক দশকে এএমটিসি শুধু মডেল তৈরি করেনি, বরং আত্মবিশ্বাসী ও পেশাদার তরুণ-তরুণী গড়ে তুলেছে। তিনি মনে করেন এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ফ্যাশন ও সৃজনশীল শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল 'স্টার স্টুডেন্ট' সম্মাননা। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন করা শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়। সম্মানিতদের তালিকায় রয়েছেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০১৯ শিরিন আখতার শীলা, শাহেলা মজুমদার নিধি, বি. প্রসাদ, শারিয়ার আজরাফ, জারিফ শাবাব, ফাইজা ফেরদৌস খান, ফাইজা নূন, ফাতিহা খুলদ মিয়ামি, পারিনাজ লামিয়া, আবন্তিকা রহমান, মাহেলেকা জাবিন, মারিয়া আক্তার মৃদুলা, জিদনি খান, প্রজ্ঞা ইসলাম, রাহনুমা নুরাইন তানহা, ফাহমিদা আহমেদ বুশরা, ফাবলিহা খান, আফসানা আহমাদ, তাহমিনা আঞ্জুম ইলা, উম্মে জামিলাতুন নাইমা, ইয়াসিন আহমেদ সোকাল এবং যুক্তা ভৌমিক। বর্তমানে এই শিক্ষার্থীদের অনেকেই দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও ডিজাইনারদের সঙ্গে কাজ করছেন। কেউ আন্তর্জাতিক মডেলিং প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, কেউ প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন টেলিভিশন উপস্থাপক, কোরিওগ্রাফার বা বিউটি পেজেন্ট বিজয়ী হিসেবে।
এক দশকের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এএমটিসি এখন আরও বড় লক্ষ্যে এগোচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশের ফ্যাশন, পেজেন্ট্রি ও উপস্থাপনা অঙ্গনে দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী এবং বিশ্বমানের প্রতিভা গড়ে তোলার এই যাত্রা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান আয়োজকরা।




