প্রখ্যাত নাট্যনির্মাতা ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সাবেক মহাপরিচালক মুস্তাফিজুর রহমানের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। তিন দিন পূর্বে মৃত্যুবরণ করলেও, বিদেশে অবস্থানরত দুই পুত্র দেশে ফিরলে বুধবার বনানী কবরস্থানে তাঁকে চিরশায়িত করা হয়।
গত রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসভবনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এই বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। কানাডার টরন্টো থেকে বড় ছেলে তানভীর রানা মুস্তাফিজ এবং অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে ছোট ছেলে রাজিন অভি মুস্তাফিজের দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য মহাখালীর একটি হাসপাতালের হিমঘরে মরদেহ সংরক্ষিত ছিল। পারিবারিক সিদ্ধান্তক্রমে দুই সন্তান ফেরার পর আজ বুধবার দাফনের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়। মৃত্যু ও শেষকৃত্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মরহুমের স্ত্রী ও বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী রওশন আরা মুস্তাফিজ।
সকাল ১০টায় সর্বপ্রথম মরদেহ নেওয়া হয় তার দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতিষ্ঠান বিটিভি ভবনে। সেখানে সহকর্মী ও গুণগ্রাহীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ স্থানান্তর করা হয় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে, যেখানে দুপুর পৌনে ১২টায় দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, বিটিভির সাবেক মহাব্যবস্থাপক ম. হামিদ, চলচ্চিত্র নির্দেশক হাবিবুল ইসলাম, যন্ত্রসংগীতশিল্পী গাজী আবদুল হাকিম ও অভিনেত্রী আফসানা মিমিসহ আরও অনেকেই।
পরে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টর জামে মসজিদে বাদ জোহর তৃতীয় ও সর্বশেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজ শেষে বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ছোট ছেলে রাজিন অভি মুস্তাফিজ।
মুস্তাফিজুর রহমান ১৯৪৩ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকার জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন দেশের টেলিভিশন মাধ্যমের স্বর্ণযুগের অন্যতম প্রধান রূপকার। তার প্রযোজনায় নির্মিত ‘সময়-অসময়’, ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘পারলে না রুমকি’ ও ‘শঙ্খনীল কারাগার’র মতো অসংখ্য কালোত্তীর্ণ নাটক আজও দর্শকদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। বিটিভির মহাপরিচালকের গুরুদায়িত্ব পালন ছাড়াও বাংলাভিশন ও গাজী টিভির (জিটিভি) প্রতিষ্ঠার পেছনে তার অবদান ছিল অপরিসীম, যা দেশের বেসরকারি টেলিভিশন সম্প্রচারের পথকে প্রশস্ত করে।




