ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে সুপারবোলের অনুকরণে আয়োজিত হাফটাইম শোতে জাস্টিন বিবার, বিটিএস, বার্না বয় ও ক্রিস মার্টিনের মতো তারকাদের ছাপিয়ে আলোচনায় এসেছেন ম্যাডোনা ও শাকিরা। দুই শিল্পীর বয়স যথাক্রমে ৬৭ ও ৪৯ বছর হওয়া সত্ত্বেও মঞ্চে তাদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি, শক্তিশালী নাচ ও ফিটনেস দেখে মুগ্ধ হয়েছে বিশ্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক মন্তব্যে বলা হয়েছে, 'যদি বাঁচতে হয়, তাহলে ম্যাডোনা আর শাকিরাকে দেখো। তাদের কাছ থেকে শেখো কীভাবে বাঁচতে হয়।' মঞ্চে 'কুইন অব পপ' ম্যাডোনার পারফরম্যান্সের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে রোমান সেনাপতি জুলিয়াস সিজারের 'ভিনি, ভিডি, ভিসি'-এর মতো—এসেছিলেন, দেখিয়েছিলেন, জয় করেছিলেন। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে এই দুই তারকার অংশগ্রহণ শুধু নস্টালজিয়া জাগানোর জন্য নয়; বরং চার দশকের বেশি সময় ধরে ম্যাডোনা এবং তিন দশকের বেশি সময় ধরে শাকিরা বিশ্বসংগীতে যে প্রভাব ফেলেছেন, তা উদযাপনের জন্যই। ম্যাডোনা একা মঞ্চে আসেননি, তার সঙ্গে ছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদো ও রোনালদিনহো। তিনি তার ২০০০ সালের জনপ্রিয় গান 'মিউজিক'-এর নতুন সংস্করণ পরিবেশন করে কোটি দর্শকের হৃদয় জয় করেন। কয়েক দশক ধরে ম্যাডোনা নিজের ফিটনেস নিয়ে অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ। তার দৈনন্দিন রুটিনের মধ্যে রয়েছে—সপ্তাহে প্রায় ছয় দিন ব্যায়াম, স্ট্রেংথ ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি পিলাটিস, যোগব্যায়াম ও নাচের অনুশীলন। কনসার্ট ট্যুরের আগে দীর্ঘ সময় ধরে কোরিওগ্রাফির মহড়া, যা উচ্চমাত্রার কার্ডিও ওয়ার্কআউট হিসেবে কাজ করে। পর্যাপ্ত ঘুম ও শরীর পুনরুদ্ধারে জোর দেন তিনি। পুষ্টিকর, প্রোটিনসমৃদ্ধ ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন। ২০২৩ সালে গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তি হলেও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে আবার মঞ্চে ফিরেছেন। তার মতে, ধারাবাহিক অনুশীলন আর শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনই তাকে বারবার ফিরে আসার শক্তি দেয়।অন্যদিকে, শাকিরার ফিটনেসের মূল রহস্য তার নাচ। বেলিড্যান্স, লাতিন নাচ ও কনসার্টের অনুশীলন তাকে স্বাভাবিকভাবেই উচ্চমাত্রার শারীরিক কার্যক্রমে রাখে। তার ফিটনেস রুটিনে সাধারণত থাকে—সপ্তাহে পাঁচ থেকে ছয় দিন ব্যায়াম, কার্ডিও, শক্তিবর্ধক ব্যায়াম এবং এইচআইআইটি (হাই ইনটেনসিটি ইন্টারভ্যাল ট্রেনিং)। পাশাপাশি পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি ও ফলসমৃদ্ধ খাদ্য, অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা। সারা দিনে পর্যাপ্ত খাওয়া। শাকিরা একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ফিট থাকা তার কাছে শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে গান গাওয়া ও নাচার জন্য এটি পেশাগত প্রয়োজন। গতকাল রাতে অ্যাফ্রোবিটস আর ঐতিহ্যবাহী আফ্রিকান নাচের সমন্বয়ে শাকিরা যা দেখিয়েছেন, তা নিয়ে দর্শকরা বলছেন 'আই ক্যান্ডি'। বার্না বয়কে সঙ্গে নিয়ে 'দাই দাই' গানটিতে নাইজেরিয়ান অ্যাফ্রোবিটস এবং উগান্ডার 'ঘেটো কিডস'-এর ছন্দে আফ্রিকান স্ট্রিট ড্যান্সের যে মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন, তা এককথায় আশ্চর্য নিখুঁত শিল্প।বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যাডোনা ও শাকিরার ফিটনেসের পেছনে কোনো জাদু নেই। আছে নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, শক্তিবর্ধক অনুশীলন, পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম আর বছরের পর বছর একই রুটিন ধরে রাখার শৃঙ্খলা। বিশ্বকাপের হাফটাইম শোতে এই দুই তারকার দুর্দান্ত উপস্থিতি বার্তা দেয়—আপনি যেমন জীবন যাপন করতে চান, জীবনে যা কিছু অর্জন করতে চান না কেন, সেখানে বয়স কোনো বাধা নয়। তাই যেকোনো বয়সেই নিজের সঠিক নিয়মে বাঁচুন। বয়সকে অভিজ্ঞতার সৌন্দর্য ও অনুধাবনের শক্তির সঙ্গে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করারও এটি একটি শক্তিশালী বার্তা।
বয়সের পরোয়া না করে মঞ্চ কাঁপালেন ম্যাডোনা ও শাকিরা, ফিটনেসের রহস্য কী?
বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইম শোতে ৬৭ বছরের ম্যাডোনা ও ৪৯ বছরের শাকিরা দারুণ পারফরম্যান্সে সবার নজর কেড়েছেন। নিয়মিত ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাদ্য ও শৃঙ্খলাই তাদের ফিটনেসের মূল চাবিকাঠি।




