রাজধানীর দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকায় নারী দন্তচিকিৎসক সারা রোকসানা (৪২) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া তাঁর স্বামী মো. সোহেল রানার রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের এজলাসে শুনানী শেষে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

প্রসিকিউশনের উপপরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছেন, দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদের পর আসামি সোহেল রানাকে বিচারকের সম্মুখে হাজির করা হয়। মামলার তদস কর্মকর্তা ও দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক হাবিবুর রহমান তাকে জেলে পাঠানোর আবেদন উপস্থাপন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে। আদালতকে তাক কর্মকতা জানিয়েছেন, রিমান্ডকালে আসামি বেশ কিছু জরুরি তথ্য প্রদান করেছে, যেগুলোর সততা যাচাই-বাছাই চলছে।

এর আগে গত ৩ আগস্ট এই হত্যা মামলায় সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের হেফাজতে চেয়ে আবেদনের অনুমতি দিয়েছিলেন একই আদালত। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৩০ জুলাই দক্ষিণখানের ফায়দাবাদস্থ জামতলা গলির একটি বহুতলের দোতলা ফ্ল্যাট থেকে চিকিৎসক সারা রোকসানার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন নিহতের বোনের দায়ের করা এজাহারে বলা হয়, ঘটনার দিন সকাল ১১টা ২০ মিনিটে তাদের দশ বছরের মেয়েটিকে বিদ্যালয়ে পৌঁছিয়ে দিয়ে নিজের কাজে যান সোহেল রানা। তখন বাসায় একা ছিলেন সারা।

বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে স্কুল ছুটি হলে মেয়েটি একা বাসায় ফিরে তার মায়ের অবস্থা দেখতে পায়। শোবার ঘরে বিছানার উপর মুখের ওপর বালিশ চাপা দেওয়া অবস্থায় পড়েছিলেন তার মা। ডাকাডাকির পর কোনো উত্তর না পেয়ে মা বেঁচে নেই বুঝতে পারে শিশুটি। পরে স্কুলে ফিরে অধ্যক্ষের ফোন ব্যবহার করে বাবাকে দুসংবাদটি জানানো হয়। খবর পেয়ে সোহেল রানা এবং পরবর্তী সময়ে সারা রোকসানার স্বজনেরা সেখানে পৌঁছান।

মামলার বরাতে আরও জানানো হয়, ফ্ল্যাটের একটি জানালার লোহার গ্রিল কাটা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল এবং আলমারি থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণের গহনার লাপত্তা ছিল। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা হয়েছিল, ডাকাত দল গ্রিল কেটে প্রবেশ করে ওই মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার সময় হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে।

পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মাঠে আসে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আলামত জড়ো করে। মরদেহটির ময়নাতদন্ত শেষে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাত গভীর সময় সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিকভাবে জেরার মুখে তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বৈবাহিক অশান্তি চলে আসছিল এবং স্ত্রীকে একটি বিষয়ে সন্দেহ করতেন।