মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষায় এক গভীর সংকট দেখা দিয়েছে। অ্যামহার্স্ট কলেজের এক অধ্যাপক, যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান পড়াচ্ছেন, সম্প্রতি একটি নিবন্ধে এই উদ্বেগজনক প্রবণতা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, আগে শিক্ষার্থীরা লম্বা ও জটিল পাঠ্য পড়ে আলোচনায় অংশ নিত; এখন তারা এসে জিজ্ঞেস করে কীভাবে তা দ্রুত ‘স্কিম’ করা যায়। এই পরিবর্তন তাকে ভাবিয়ে তুলেছে যে, এটি কি একটি দীর্ঘমেয়াদি ধারা যার সূত্রপাত কলেজের আগেই ঘটে।

এই ধারণার পক্ষে পরিসংখ্যানও আছে। ২০২৪-২৫ সালের এক জরিপে ১,২৫০ জন উচ্চমাধ্যমিক ইংরেজি শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা জানান, তারা গড়ে বছরে ২.৮১টি সম্পূর্ণ বই পড়ান। ২০০৮-০৯ সালের এক তুলনামূলক জরিপে তা ছিল চারটি। কেউ কেউ এখন শুধু উদ্ধৃতাংশই পড়ান, পুরো বই নয়। ন্যাশনাল এন্ডোমেন্ট ফর দ্য আর্টসের গবেষণা পরিচালক সুনীল আইয়েঙ্গারের মতে, ২০২৪ সালে মাত্র ৪৯% প্রাপ্তবয়স্ক জানিয়েছেন যে তারা গত এক বছরে অন্তত একটি বই পড়েছেন; এক দশক আগে এই হার ছিল প্রায় ৫৫%।

পড়ার দক্ষতার মান নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়ছে। ২০২৫ সালে ৩২% দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মৌলিক পড়ার স্তরের নিচে স্কোর করেছে, যা ২০০২ সালে ছিল ২৪%। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা অধ্যাপক মার্টিন ওয়েস্ট বলেছেন, মার্কিন সাক্ষরতার দক্ষতা ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সর্বোচ্চ ছিল এবং তারপর থেকে ক্রমাগত কমছে।

অধ্যাপকটি মনে করেন, এই সংকট শুধু বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ব্যক্তিগতভাবেই প্রতিদিনই অনুভব করেন যে, পড়ার ঐতিহ্য কতটা নড়বড়ে হয়ে গেছে। ১৬৩৬ সালে হার্ভার্ড প্রতিষ্ঠার সময় থেকে আমেরিকান জীবনে পড়ার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। টমাস জেফারসন বলেছিলেন, ‘বই ছাড়া বাঁচতে পারি না।’ কিন্তু এখন শিক্ষার্থীরা বইয়ের গভীরে প্রবেশের পথ না চেয়ে বরং সহজ পথ খুঁজছে।

এই প্রথম নয় যে উচ্চশিক্ষা পড়ার সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। উনবিংশ শতাব্দীতেও কলেজগুলোতে ভর্তি হওয়া অনেক শিক্ষার্থী একাডেমিক পড়ার চাপ নিতে পারত না। তখন উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠান প্রস্তুতিমূলক পাঠ কর্মসূচি চালু করেছিল, যা পরে শিকাগো, ইলিনয় এবং কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ও অনুসরণ করে। এখন আবারও তেমন কিছু প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু বর্তমান শিক্ষার্থীরা ভর্তির মানদণ্ডে অপ্রস্তুত নয়; বরং কে-১২ ব্যবস্থা তাদের পুরো বই শেষ করার অনুশীলনই বন্ধ করে দিয়েছে।

গত গ্রীষ্মে অধ্যাপকটি কয়েকজন সহকর্মীকে নিয়ে ‘কেন পড়বো?’ নামে একটি সংক্ষিপ্ত কোর্স চালান। তিন সপ্তাহ ধরে তারা মার্থা নাসবাউম ও এডওয়ার্ড সাইদের মতো পণ্ডিতদের রচনা পড়েন। শিক্ষার্থীদের আগ্রহের অভাব ছিল না, কিন্তু দীর্ঘ ও কঠিন কিছু পড়ার জন্য তাদের প্রস্তুতি ছিল অত্যন্ত অসম। অধ্যাপকটি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, ব্যায়ামের মতো পড়ার ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বেশি লাভ হয় সবচেয়ে বেশি চেষ্টা করলে। দীর্ঘ কিছু পড়ার জন্য ধৈর্য ও মনোযোগ লাগে, যুক্তি বা প্লট অনুসরণ করার ক্ষমতা তৈরি হয় এবং অর্থ উন্মোচনের জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা দরকার।

নিঃসন্দেহে, একটি মাত্র কোর্স দিয়ে শিক্ষার্থীদের গভীরে প্রোথিত অভ্যাস বদলে যাবে না। তবে অধ্যাপকটির মত, কলেজের শিক্ষকদের উচিত শিক্ষার্থীদের বোঝানো যে পুরো বই পড়ার গুরুত্ব কী। যদি তারা তা না পারেন বা না চান, তাহলে উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এই নিবন্ধটি ফরচুন ডটকমে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি দ্য কনভারসেশন থেকে অনুমতি নিয়ে নেওয়া।