চলমান সামরিক সংঘর্ষের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। ওয়াশিংটন বলছে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার পথ এখনো বন্ধ হয়নি। অপরদিকে ইরানও জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত রোববার রাতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে। তবে তিনি শর্ত দিয়ে বলেন, আলোচনা বাস্তবসম্মত হতে হবে এবং এমন একটি চুক্তির ভিত্তিতে গড়ে উঠতে হবে যা ইরান মেনে চলতে রাজি থাকবে। আজ সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি। তিনি বলেন, 'মধ্যস্থতাকারীরা আমাদের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব ও ধারণা পৌঁছে দিয়েছেন। আমরা বিস্তারিত বলতে চাই না, তবে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।'
টানা নবম দিনের মতো গত রাতেও ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ইরানের দাবি, সেখানে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং সেগুলো অচল হয়ে পড়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা জর্ডানের আকাবায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটি, কুয়েতের আল-আদিরি ক্যাম্প ও আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ সকালে দেশটিতে সতর্কসংকেত বাজানো হয়েছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের পাঠানো ড্রোন প্রতিহত করেছে।
গত ১৭ জুন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর কার্যত ভেঙে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর ইরানও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই সমঝোতা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু এখন হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায় করতে চায় ইরান, যার বিরোধিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা কমিয়ে দিতে তারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় হামলা শুরু করেছে। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, আজ ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাহশাহর ও বন্দর ইমাম খোমেনি শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হামলার অভিযোগ তুলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বলেন, আন্তর্জাতিক জলপথে হামলা চালানো বন্ধ না করলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে। তবে তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো খোলা রয়েছে।




