প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুকের নেতৃত্বাধীন শেষ প্রান্তিকে চমৎকার আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে অ্যাপল। বৃহস্পতিবার ঘোষিত তৃতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) এই প্রতিবেদনে আইফোন ও ম্যাকবুক কম্পিউটারের শক্তিশালী বিক্রির কল্যাণে ওয়াল স্ট্রিটের পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে গেছে প্রযুক্তি জায়ান্টটি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উত্থানে মেমোরি চিপের সংকট দেখা দেওয়ায় গত মাসে অ্যাপল তাদের ম্যাক ও আইপ্যাডের দাম বাড়িয়েছিল। কোম্পানিটি সেই সময় ভোক্তা ইলেকট্রনিক্স শিল্পের জন্য এই চাহিদার ঊর্ধ্বগতিকে একটি “অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ” হিসেবে অভিহিত করেছিল। যদিও এখনও পর্যন্ত আইফোনের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়নি, তবিশ্লেষক ও গ্রাহকরা আশা করছেন বছরের শেষভাগে তা ঘটতে পারে।
আইফোন ও আইপ্যাডের নির্মাতা জানিয়েছে, এপ্রিল-জুন মেয়াদে তাদের আয় দাঁড়িয়েছে ২৯.৭৯ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি ২.০২ ডলার। এই পরিমাণ গত বছরর একই সময়ের ২৩.৪৩ বিলিয়ন ডলার বা শেয়ারপ্রতি ১.৫৭ ডলারের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে কোম্পানির রাজস্ব আগের বছর ৯৪.০৪ বিলিয়ন ডলার থেকে ১৬ শতাংশ বেড়ে ১০৯.৪২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফ্যাক্টসেটের এক জরিপ বলছে, বিশ্লেষকরা গড়ে ১০৯ বিলিয়ন ডলার রাজস্বের বিপরীতে শেয়ারপ্রতি ১.৮৯ ডলার আয়ের প্রত্যাশা করেছিলেন। এ ছাড়া, এই প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ১১ সেন্টের শুল্ক ফেরতও আয়ে অবদান রেখেছে।
অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক এক বিবৃতিতে বলেন, “আজ অ্যাপল আমাদের সর্বকালের সেরা জুন প্রান্তিকের তথ্য জানাতে পেরে গর্বিত, যেখানে আইফোন, ম্যাক এবং পরিষেবা খাত এবং প্রতিটি ভৌগোলিক অঞ্চলে দুই অঙ্কের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।” এটি ছিল কুকের শেষ আয়-সংক্রান্ত কল। গত এপ্রিলে ১৫ বছর ধরে কোম্পানির হাল ধরার পর তিনি অবসরের ঘোষণা দেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান জন টারনাস তার স্থলাভিষিক্ত হবেন। কুক মন্তব্য করেন, “তার নেতৃত্ব, নির্বাহী দল এবং অ্যাপলের অসাধারণ প্রতিভাবান কর্মীদের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।”
ইনভেস্টিং ডটকমের বিশ্লেষক টমাস মন্টেইরো উল্লেখ করেছেন, বিগ টেকের অপরাপর প্রতিষ্ঠানগুলো যে ব্যাপক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের সাথে লড়াই করছে, অ্যাপল তা ছাড়াই নগদ অর্থ উৎপাদন করে চলেছে এবং “তা কার্যক্রমের বেশিরভাগ অংশেই প্রতীয়মান হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “অন্যান্য বিগ টেক প্রতিষ্ঠানের নিখরচায় নগদ প্রবাহের গতিপথ নিয়ে বাজার যতই উদ্বিগ্ন হচ্ছে, অ্যাপল ততই ঝড়ের মধ্যে এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করছে।” তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে মেমোরি চিপের ব্যয়, যা ক্রমাগতভাবে বাড়ছেই, আগামী প্রান্তিকগুলোতে অ্যাপলের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি, লাভের মার্জিন বাড়াতে শুল্ক সুবিধাও আর থাকবে না। তার মতে, সেপ্টেম্বরের নতুন আইফোন লঞ্চ এবং আরও কিছু মূল্যবৃদ্ধি এই চাপ “সামলে নিতে সহায়তা করবে।”
ক্যালিফোর্নিয়ার কাপার্টিনো সদর দপ্তরের অ্যাপল, যারা সম্প্রতি এনভিডিয়াকে পেছনে ফেলে পুনরায় বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানির তকমা অর্জন করেছে, তাদের শেয়ারের দাম দাপ্তরিক লেনদেন-পরবর্তী সময়ে ২.৩% বা ৭.৫২ ডলার কমে গিয়ে ৩২৫.৯১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।




