মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ খাতে প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে দাম কমানোর যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ শুরু হয়েছিল, তা বাস্তবে পরিণত হয়নি। বরং, নিয়ন্ত্রিত বাজারগুলোতে ভোক্তারা এখনো কম দামে বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। ২০২৪ সালের তথ্য বলছে, খুচরা পছন্দের (রিটেল চয়েস) বাজারগুলোতে প্রতি আবাসিক অ্যাকাউন্টে ৪৮০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত চার্জ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, দেশজুড়ে এই বাজারগুলোতে গ্রাহকরা প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করেছেন একই বিদ্যুৎ পেতেও।

লেখক লরেল পেল্টিয়ারের প্রতিবেদন ‘ক্যাভিয়েট এম্পটর: আমেরিকা’স ৪৮ বিলিয়ন কম্পিটিটিভ রিটেল ইলেকট্রিসিটি বাস্ট’-এ যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যেসব অঞ্চলে গ্রাহকরা নিজস্ব পছন্দের খুচরা বিক্রেতা বা বিদ্যমান নিয়ন্ত্রিত ইউটিলিটি থেকে বিদ্যুৎ কেনার সুযোগ পান, সেখানে মূল্যের পার্থক্য উল্লেখযোগ্য। টেক্সাস এই অতিরিক্ত চার্জের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে। রাজ্যটির বাজার কাঠামো বিখ্যাত এনরনের সময়কার উদ্ভাবনের উত্তরসূরি। টেক্সাসে নিয়ন্ত্রিত ইউটিলিটির গ্রাহকদের তুলনায় প্রায় ৭০ লাখ পরিবারকে আইনত লাইসেন্সপ্রাপ্ত খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে বিদ্যুৎ কিনতে হয়। এই নিয়মকে নিয়ন্ত্রণমুক্ত বিমান চলাচলের সঙ্গে তুলনা করে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—সেখানে কি ভ্রমণকারীদের ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট কাটতে বাধ্য করা হয়? ফেডারেল সরকার বিমান শিল্প নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার সময় এমন শর্ত দেয়নি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে টেক্সাসে জেনারেটর এবং খুচরা বিক্রেতারা আবার একীভূত হয়ে গেছে। এনআরজি ও ভিস্ট্রা এখন আবাসিক খুচরা বাজারের প্রায় ৭০% নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের দাম টেক্সাস পাবলিক ইউটিলিটি কমিশনের নিয়ন্ত্রণ ও অনুমোদনের আওতাভুক্ত নয়। রাজ্য-নির্দেশিত একটি জটিল ওয়েবসাইটে ভোক্তারা বিভিন্ন পরিকল্পনা দেখতে পারেন, কিন্তু সেখানেও প্রতিযোগিতা না করে তারা নিজেদের মধ্যে দাম মিলিয়ে নেয়। পরিবারগুলো প্রতি বছর দাম তুলনা করে পরিবর্তন করে না। ফলে, খুচরা বিক্রেতারা তাদের অধিক মূল্যের পরিকল্পনায় স্থানান্তরিত করে।

টেক্সাসের গ্রিড অপারেটর ইআরসিওটির ইতিহাস অন্য বাজারগুলোর জন্য শিক্ষণীয়। ২০০৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইআরকট গ্রাহকদের ২৮ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত চার্জ দিতে হয়েছে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে। ২০২১ সালে রাজ্যব্যাপী ফ্রিজের কারণে গ্রিড বিপর্যয় থেকে আরও ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত চার্জ আসে। ২০২৩ সালে তা ১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে এবং এরপরও আরও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বাড়তে থাকে।

বর্তমানে এআই ডেটা সেন্টার স্থাপনের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়ছে। যে রাজ্যগুলো ঐতিহ্যবাহী নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা ধরে রেখেছে, সেখানে আবাসিক গ্রাহকদের সুরক্ষা দিয়ে ডেটা সেন্টার চালু করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু যেসব রাজ্য শুধুমাত্র খুচরা পছন্দের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে ডিমান্ড-সাপ্লাইয়ের সমন্বয় নেই। খুচরা বিক্রেতাদের কখনোই ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে আগেভাগে বিদ্যুৎ কিনতে বাধ্য করা হয়নি। নতুন সম্প্রসারণের খরচ যাতে আবাসিক গ্রাহকদের ওপর না পড়ে, সেজন্য পিজেএম-এর মতো গ্রিড অপারেটররা এখন এআই ডেটা সেন্টারগুলোর নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় সেবার খরচ বহনের শর্ত দিচ্ছে।

জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের মতে, দেশজুড়ে আবাসিক গ্রাহকরা বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের চেয়ে বেশি হার দিচ্ছেন। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বছরে গড়ে আবাসিক হার বেড়েছে ৮%, যা মুদ্রাস্ফীতির হার থেকেও বেশি। নিয়ন্ত্রণমুক্ত বাজারগুলোতে এই পার্থক্য আরও প্রকট। টেক্সাসে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের হার বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ ব্যয় কর থেকে ছাড় পেতে পারেন বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, আবাসিক গ্রাহকরা ব্যবসায়ীদের ভর্তুকি দিতে বেশি হার ও বেশি কর দিচ্ছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারের ধারণা যে ভোক্তাদের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার কাজটি ভালোভাবে করতে পারে, তা ছিল ত্রুটিপূর্ণ। একটি কোম্পানিকে তিন-চারটি লাভজনক অংশে বিভক্ত করে সস্তা বিদ্যুৎ দেওয়ার ধারণাও ব্যর্থ হয়েছে। স্বাধীন বাজার সমর্থকরা যেখানে এই ব্যর্থতা দেখতে পান না, সেখানে টেক্সাসে রাজ্য সরকার আবাসিক গ্রাহকদের বাধ্য করছে ‘রিটেল চয়েস’-এ অংশ নিতে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সরকারি একচেটিয়া প্রতিষ্ঠান থেকেই বিদ্যুৎ কিনছে। রাজনীতিতে এই বিড়ম্বনা ততটা কাজ করে না যতটা অর্থ কাজ করে। নিয়ন্ত্রণমুক্ত বাজারগুলোর জেনারেটর ও খুচরা বিক্রেতারা তাদের অতিরিক্ত চার্জের একটি অংশ রাজনৈতিক প্রচারণায় রূপান্তর করতে সক্ষম হচ্ছে, আর ভোক্তাদের বিল বাড়ছে। ভোটারদের সাবধান থাকতে হবে।