দেশব্যাপী চলমান বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৯টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ জনে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৬৮টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা। তবে পানি কমতে শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির ফলে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও মৌলভীবাজার—এই সাত জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। এসব জেলার মোট ৫৯টি উপজেলা, ৩৬৮টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা বন্যার কবলে পড়ে। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠছে।

ত্রাণ কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বন্যাজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তারা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি জমি ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি, পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্পর্কে তথ্য দেন। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ওই আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।