সিলেটের জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ (জেসিইএসসি) প্রাঙ্গণে এক আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ব্রিটিশ কাউন্সিলের সঙ্গে এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে তাদের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতা মূল্যায়নে দুটি বিশেষ পরীক্ষা পদ্ধতি গ্রহণ করল। ‘প্রাইমারি ইংলিশ টেস্ট’ ও ‘সেকেন্ডারি ইংলিশ টেস্ট’ নামের এই মূল্যায়ন কার্যক্রমগুলো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তৃতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, জেসিইএসসির অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, এই যৌথ উদ্যোগের অংশ হিসেবে জেসিইএসসি কর্তৃপক্ষ একটি দাপ্তরিক ‘আইইএলটিএস (IELTS) রেজিস্ট্রেশন সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষকমণ্ডলী এবং অভিভাবকেরা অত্যন্ত সহজ ও সুবিধাজনক প্রক্রিয়ায় এখান থেকেই আইইএলটিএস পরীক্ষার নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন।

ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ইংলিশ অ্যান্ড এক্সামিনেশনস বিভাগের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জুনায়েদ আহমেদ এই অংশীদারত্বের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সঙ্গে আমাদের এই অনন্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি আন্তর্জাতিক মানের ইংরেজি মূল্যায়ন পদ্ধতি সহজলভ্য করেছে। শৈশব থেকেই ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগ দক্ষতা গড়ে তোলার মাধ্যমে আমরা আগামী দিনের বিশ্ব নাগরিক তৈরির পথ সুগম করছি। এই যাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য আমি জেসিইএসসির নেতৃত্ববৃন্দকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

জেসিইএসসির অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মো. আরিফুর রহমান, পিএসসি, পিএইচডি, এইসি, ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানকে একটি বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্য আমি ব্রিটিশ কাউন্সিলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের নিষ্ঠা ও নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই উদ্যোগকে সফল করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে এই অংশীদারত্ব আমাদের প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি শিক্ষার ভিত্তিকে আরও মজবুত করবে এবং আমাদের শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে অনুপ্রাণিত করবে।’

অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের অ্যাকাউন্ট রিলেশনশিপ ম্যানেজার আনিকা বুশরা একটি তথ্যবহুল ও আকর্ষণীয় প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে একটি ইন্টারেকটিভ প্রশ্নোত্তর (Q&A) পর্বের আয়োজন করা হয়, যেখানে উপস্থিত অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ব্রিটিশ কাউন্সিল টিমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং এই মূল্যায়ন পরীক্ষাগুলোর দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাগত সুবিধাগুলো বিস্তারিতভাবে জেনে নেন। এই যৌথ প্রচেষ্টা ইংরেজি ভাষা শিক্ষার মানোন্নয়নে উভয় প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকারেরই প্রকাশ। এর মাধ্যমে জেসিইএসসির শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্য, উচ্চশিক্ষা ও বৈশ্বিক অঙ্গনে যুক্ত হওয়ার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।