থাইল্যান্ডের নোনথাবুরি প্রদেশে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সাবেক এমপির গুলিতে এক স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত কর্মকর্তার গাড়িচালকও এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। খুনের পর অভিযুক্ত সাবেক এমপি সরাসরি একটি ইউটিউব লাইভ সম্প্রচারে ফোন করে তার কৃতকর্মের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত সাবেক এমপি চালং রাওরেংকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর থানায় তাকে সংবাদ সম্মেলন করার অনুমতি দেওয়া হয়, যেখানে ধূমপান করতে করতে তিনি ঘটনার নিজস্ব বর্ণনা দেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নিহত থংচাই ইয়েনপ্রাসার্ট তার ওপর "রাগান্বিত" ছিলেন, তবে কেন রাগান্বিত ছিলেন তা তিনি ব্যাখ্যা করেননি। তিনি আরও দাবি করেন, থংচাইকে হত্যার কোনো পূর্বপরিকল্পনা তার ছিল না এবং থংচাইকে তিনি "ভালো বন্ধু" হিসেবে বিবেচনা করতেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দুইজনের মধ্যে একটি ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল। চালং জানান, তিনি থংচাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু থংচাই তাকে ঠেলে দিয়ে বলেন, "আমি কথা বলতে চাই না।" এরপর চালং থংচাইয়ের গাড়ির দিকে যেতে থাকেন। সেই সময়ে তার বর্ণনা অনুযায়ী, থংচাইয়ের গাড়িচালক বন্দুক বের করে তার দিকে তাক করলে তিনি গুলি চালান। থংচাইয়ের গলায় গুলি লাগলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত থংচাই অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্নেল এবং নোনথাবুরি প্রাদেশিক প্রশাসনিক সংস্থার (পিএও) সভাপতি ছিলেন। ঘটনার আগে চালং রাজনৈতিক ভাষ্যকার আঞ্চলি পাইরিরাককে ফোন করেছিলেন, যিনি তখন ইউটিউবে লাইভ সম্প্রচার করছিলেন। লাইভে দেখা যায়, অনুষ্ঠানের মাঝপথে ফোন রিসিভ করে আঞ্চলি বলেন, "আমি আপনাকে পরে কল করব... ওহ, বড় কিছু হয়েছে? বলুন, কী হয়েছে?" পরবর্তীতে ফোনে কী কথা হয়েছে তা দর্শকরা শুনতে না পেলেও আঞ্চলির স্তম্ভিত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তিনি বলতে শোনা যান, "সে কি মারা গেছে? সে কি মারা গেছে? আপনি তাকে মাথায় গুলি করেছেন? পুলিশের জন্য অপেক্ষা করুন। কোথাও যাবেন না।"
উল্লেখ্য, এই ঘটনার মাত্র তিন দিন আগে থাইল্যান্ডে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর বাড়ি ও স্কুলে গুলি চালিয়ে আটজনকে হত্যা করে আত্মহত্যা করে, যা ২০২২ সালের পর দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ গণশুটিং ছিল। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র নেই। সর্বশেষ এই শুটিং থাইল্যান্ডে বন্দুক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র করবে বলে মনে করা হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে থাইল্যান্ডে বন্দুকের মালিকানার হার সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি স্কুলে গণশুটিংয়ের ঘটনার পর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল বন্দুক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন এবং অভিযান চালাতে পুলিশ চেকপোস্ট বসানোর কথা বলেছেন। আগ্নেয়াস্ত্রের দখল, বহন ও ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের মতো অন্যান্য ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।




