বিশ্ব কম্পিউটার বাজারে টানা দুই বছর প্রবৃদ্ধির পর চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে দেখা দিয়েছে বিপরীত চিত্র। বাজারবিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশনের (আইডিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছর এপ্রিল-জুন সময়ে বিশ্বব্যাপী কম্পিউটার সরবরাহের পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মোট শিপমেন্ট দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৮২ লাখ ইউনিট। এর মাধ্যমে টানা নয়টি প্রান্তিক পর প্রথমবারের মতো বিক্রি কমার ঘটনা ঘটল।

আইডিসি জানিয়েছে, এ পতনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো বিশ্বব্যাপী মেমোরি চিপ বা র‍্যামের তীব্র সংকট। তবে শুধু র‍্যাম নয়, স্টোরেজ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের ঘাটতি এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও সরবরাহব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে কম্পিউটার নির্মাতারা উৎপাদন ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।

তবে মজার বিষয় হলো, বিক্রি কমলেও কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের রাজস্ব আগের চেয়ে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংকট দ্রুত কাটার কোনো লক্ষণ নেই। ফলে আগামী বছরেও গ্রাহকদের বেশি দামেই কম্পিউটার কিনতে হতে পারে।

আইডিসির গবেষণা পরিচালক জিতেশ উব্রানির মতে, ২০২৮ সালের আগে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় নির্মাতারা এখন আর আগের মতো অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ মজুত করতে পারছেন না। গত কয়েক প্রান্তিকে তারা যে মজুত করেছিল, তা দিয়েই এত দিন উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। কিন্তু সেই মজুত এখন কমে আসায় সরবরাহ সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। চলতি বছরের বাকি সময়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে এখনও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে চীনের প্রতিষ্ঠান লেনোভো। যদিও তাদের বিক্রিও কিছুটা কমেছে—প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ। তবে বাজারের ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ অংশ নিজেদের দখলে রেখে তারা এখনও শীর্ষে রয়েছে। অন্যদিকে এইচপির বিক্রি কমেছে ৯ শতাংশ এবং ডেলের ৫ শতাংশ। তবে সবাই যখন পতনের মুখে, তখন ব্যতিক্রম হয়ে দেখা দিয়েছে অ্যাপল। নতুন ম্যাকবুক নিও বাজারে আসার পর প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি বেড়েছে ১০ দশমিক ১ শতাংশ। ফলে বাজারে তাদের অংশীদারত্ব ৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

আইডিসির তথ্য বলছে, সংকট কাটিয়ে উঠতে নির্মাতাদের এখন নতুন কৌশল নিতে হবে। যন্ত্রাংশের জোগান নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস খোঁজা এবং ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এড়িয়ে সরবরাহ চেইন পুনর্গঠন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।