হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর গুলিবর্ষণ বন্ধের বিষয়ে ইরানের কাছ থেকে একটি প্রকাশ্য বিবৃতি দাবি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আসন্ন শনিবার অনুষ্ঠেয় আলোচনার অংশ হিসেবে এই দাবি জানানো হয়েছে। বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইরান ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের কাছে স্বীকার করেছে যে জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানো একটি ভুল ছিল, যদিও তেহরান এর দায় একটি উগ্র অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীর ওপর চাপিয়েছে।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরানের দাবি অনুযায়ী কট্টরপন্থীদের একটি 'বিচ্যুত' অংশ আলোচনাকে ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যেই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে গুলি চালিয়েছে। মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কটিকে একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, 'তারা (ইরানিরা) আলোচনার টেবিলে ফিরে এসে বলেছে, আমরা গণ্ডগোল করেছি। আমরা ভুল করেছি। আসুন, আলোচনা চালিয়ে যাই।'
শুক্রবার সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের নেতৃত্বের কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে। তাতে প্রণালীটি খোলা ঘোষণা করে জাহাজে গুলি বন্ধের প্রতিশ্রুতি সংবলিত একটি বিবৃতি প্রকাশের দাবি জানানো হয়। রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা যায়, একজন কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, 'হয় তারা আমাদের সেই বিবৃতি দেবে, নতুবা তাদের জন্য ভালো কোনো ফলাফল হবে না।'
সিবিএস-এর খবর অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস এটাও চায় যে ইরান প্রকাশ্যে স্বীকার করুক জাহাজে গোলাবর্ষণ একটি ভুল ছিল। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং মধ্যপ্রাচ্য আলোচনায় নিবিড়ভাবে জড়িত দুই ব্যক্তি—বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার—ওমানে শনিবারের এই আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, উত্তেজনা প্রশমন এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল সহজতর করার লক্ষ্যে কাতারের একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার ইরান সফর করেছে। এর আগে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে লেখেন, 'ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আমাদের 'আলোচনা' চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতি শেষ!'
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর শুক্রবার আর কোনো নতুন হামলার খবর পাওয়া যায়নি। জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির পর এটাই ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ। মার্কিন-সুপারিশকৃত পথ ধরে ওমানি জলসীমায় চলাচলের সময় তিনটি জাহাজ আক্রান্ত হয়। ইরান অবশ্য বারবার বলেছে, তাদের জলসীমার ভেতর দিয়ে ভিন্ন একটি পথই একমাত্র 'নিরাপদ'।
গত মাসে অগ্রগতি দেখা দেয় যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ১৪-দফা সমঝোতা স্মারকে একমত হয়, যার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ এবং 'সব ফ্রন্টে' সংঘাতের অবসান। চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান ও ওমানকে অবশ্যই অন্যান্য উপসাগরীয় রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রণালীটির 'ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও নৌ-সেবা' নির্ধারণে আলোচনা করতে হবে।
সংঘাত চলাকালে ইরান প্রণালীটির ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালায়, যার মধ্যে 'পারসিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি' গঠনও ছিল। তারা বলেছিল, এই কর্তৃপক্ষ 'নিরাপদ চলাচলের অনুমতিপত্র' ব্যবস্থাপনা করবে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত ওমানের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে ইরানই প্রণালীটি ব্যবস্থাপনা করবে, যেখানে জাহাজ চলাচলের জন্য সম্ভাব্য 'সেবা ফি' অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
সাম্প্রতিক এসব হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন-সমর্থিত পথ ব্যবহারকারী তেল, গ্যাস ও পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা ব্যাপক হারে কমে গেছে।




