ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিনিধিরা। তাদের এই সফরের লক্ষ্য হলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং বৃহত্তর আলোচনার পথ তৈরি করা। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা অনেকটাই থমকে গেছে। এর মধ্যে ইরানের পাঁচটি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালিয়েছে, যাতে সামরিক ও বেসামরিক উভয় স্থাপনাই লক্ষ্যবস্তু হয় এবং বেশ কয়েকজন ইরানি হতাহত হন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে পূর্ববর্তী সমঝোতা স্মারক বাতিলের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার এমন মন্তব্য ইরানের মধ্যে সংশয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং প্রধান আলোচক বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের দেশ কখনো ‘আত্মসমর্পণ’ করবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান ‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুত রয়েছে। গালিবাফের ভাষ্য, কোনো ‘জবরদস্তিমূলক কূটনীতির’ কাছে নতি স্বীকার করবে না তেহরান। বরং আলোচনা এগিয়ে নিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই সমঝোতা স্মারকের শর্ত পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে চুক্তির ১ ও ৫ নম্বর শর্ত কার্যকর করার ওপর জোর দিচ্ছে ইরান। ১ নম্বর শর্তে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। আর ৫ নম্বর শর্তে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রাখার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি ১০ নম্বর শর্ত অনুযায়ী নিজেদের জ্বালানি তেল রপ্তানির অধিকার ফিরে পাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিলেন। সেই প্রক্রিয়ায় কাতারও অংশ নিয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ বন্ধ হয়নি। বরং সাম্প্রতিক হামলার পর সমঝোতা স্মারকের শর্ত বাস্তবায়নে মার্কিন প্রশাসনের আন্তরিকতা নিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যদি সই করা চুক্তির শর্ত মেনে চলে, তবেই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

এদিকে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো সমঝোতা হওয়া অনিশ্চিত বলে মনে করছে হোয়াইট হাউস। জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সমঝোতার শর্ত বাস্তবায়নে ইরান এখনো সফল হয়নি। ফলে একটি বড় পরিসরের পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা খুবই কম। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও সম্প্রতি এ বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি হবে কিনা তা তিনি নিশ্চিত নন। মার্কিন কর্মকর্তারা আরও সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি ভূগর্ভে রাখা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে ব্যর্থ হয়, তবে কোনো পারমাণবিক চুক্তি সম্ভব নয়।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও কমে গেছে, যা বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। কাতারের মধ্যস্থতা এখন দেখবে, উত্তেজনা কমিয়ে তারা কতটা আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারে।