বিলিয়নিয়ার সমাজসেবক জন আর্নল্ডের প্রতিষ্ঠান আর্নল্ড ভেঞ্চারস সম্প্রতি এক নতুন গবেষণা তহবিল ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি স্পোর্টস বেটিং বা ক্রীড়া বাজি সংক্রান্ত স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে গবেষণার জন্য ২৬ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিচ্ছে। মঙ্গলবার এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

এই অর্থ পাবে প্রিন্সটন, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। গবেষকরা দেখবেন কীভাবে অনলাইনে বাজি রাখার সহজলভ্যতা মানুষের আর্থিক অবস্থা, মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক জীবনে প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি গবেষণার একটি অংশ নীতি নির্ধারকদের জন্য কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর সুপারিশ তৈরি করবে।

২০১৮ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় স্পোর্টস বেটিং বৈধ করে দেওয়ার পর থেকে শিল্পটি দ্রুত বেড়েছে। আর্নল্ড ভেঞ্চারসের এক মুখপাত্র জানান, নীতিনির্ধারকদের কাছে এই বিষয়ে কঠোর বৈজ্ঞানিক গবেষণার তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। এই প্রকল্প সে ফাঁক পূরণ করতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট জাস্টিন মিলনার বলেন, স্মার্টফোন থাকলেই এখন কার্যত পকেটে ক্যাসিনো বহন করা সম্ভব। স্বাধীন গবেষণা নীতিনির্ধারকদের আরও ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।

তবে এই গবেষণার আওতায় রাখা হয়নি ক্যালশি ও পলিমার্কেটের মতো প্রেডিকশন মার্কেটগুলোক। কারণ, এগুলোর বাজি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন। তাই গবেষকরা রাজ্যভিত্তিক তুলনামূলক বিশ্লেষণে মনোনিবেশ করবেন, যেখানে অনলাইন স্পোর্টস বেটিং বৈধ করার সময় ও নিয়ন্ত্রণের ভিন্নতা কাজে লাগানো হবে।

প্রাক্তন এনরন বিশ্লেষক জন আর্নল্ড পরে একটি হেজ ফান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর মতে, এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দ্রুত বাজি রাখা সম্ভব, যা আগে ছিল না। ২০১৮ সালে অনেক রাজ্যই দ্রুত স্পোর্টস বেটিং বৈধ করে বলে উল্লেখ করেন তিনি। কর রাজস্বের লোভ সেখানে কাজ করেছে বলেও মন্তব্য করেন আর্নল্ড। বাধ্যতামূলক করের চেয়ে স্বেচ্ছাকৃত কর রাজ্যগুলোর জন্য বেশি আকর্ষণীয় বলে মনে করেন তিনি।

আর্নল্ড ভেঞ্চারস জানিয়েছে, তারা কোনো পূর্বনির্ধারিত আইনগত ফলাফলের পক্ষে কাজ করছে না। লক্ষ্য নীতিনির্ধারকদের সব ধরনের প্রভাব সম্পর্কে তথ্য দেওয়া, যাতে তারা প্রয়োজনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে।

জন ও লরা আর্নল্ড দীর্ঘদিন ধরে দান করে আসছেন। ফোর্বসের তথ্য মতে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা ২৩০ কোটি ডলারের বেশি দান করেছেন—যার বেশিরভাগ গেছে অপরাধবিচার ও শিক্ষা খাতে। ২০২৫ সালের ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারাই একমাত্র গিভিং প্লেজ স্বাক্ষরকারী যারা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্পদের অর্ধেক দান করেছেন। তবে মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের মতো অন্য স্বাক্ষরকারীরা এই প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি পালন করেননি বলে সমালোচনা রয়েছে। ওয়্যার্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্রেঞ্চ গেটস এ বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।