বৃহৎ দুর্ঘটনা বা ভূমিকম্পের মতো ঘটনায় একযোগে বহু মানুষ আহত হলে তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলোর কোনো প্রস্তুতিপত্র নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তাঁদের মতে, প্রতিটি হাসপাতালের নিজস্ব জরুরি পরিকল্পনা থাকলে আরও বেশি মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। জরুরি চিকিৎসাসেবা শক্তিশালী করতে সরকার, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, রাজনীতিক ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা পরিকল্পনার খসড়া নিয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ অভিমত ব্যক্ত করেন বিশেষজ্ঞরা। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ঢাকা মেডিকেলের ক্যাজুয়ালটি বিভাগ। এতে সহযোগিতা করে আন্তর্জাতিক সংস্থা সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দল (এমএসএফ)। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসার একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই আয়োজন। দেশের যেকোনো বড় দুর্ঘটনা, সহিংসতা বা প্রতিদিনের সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে ভিড় জমান। এই ধারা বহু বছর ধরে চলছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অন্যান্য হাসপাতাল যদি কিছু রোগীর দায়িত্ব নিত, তাহলে ঢাকা মেডিকেলে সেবার মান বাড়ত। তিনি আরও জানান, সাধারণত হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি রোগীর ৮০ শতাংশ বহির্বিভাগ থেকে আসে এবং ২০ শতাংশ জরুরি বিভাগ থেকে। কিন্তু ঢাকা মেডিকেলে ঠিক উল্টো চিত্র—ভর্তি রোগীর ৮০ শতাংশই আসে জরুরি বিভাগ থেকে, বাকি ২০ শতাংশ বহির্বিভাগ থেকে। অনুষ্ঠানের শুরতে ক্যাজুয়ালটি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তাক হোসেন খসড়া পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, পরিকল্পনা থাকলে রোগী ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা উন্নত হয় এবং কিছু মৃত্যু প্রতিরোধ করা যায়। তিনি বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়, জনবল বৃদ্ধি, চিকিৎসাসামগ্রীর মজুত ও রোগী ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তাঁর মতে, বড় দুর্ঘটনায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ রোগী সাধারণ (গ্রিন), ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মাঝারি এবং ১০ থেকে ২০ শতাংশ গুরুতর অবস্থায় থাকে। জরুরি চিকিৎসার জন্য এই তিন ধরনের রোগী বাছাই (ট্রাইয়েজ) একটি জটিল কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বাছাই ভালো হলে চিকিৎসাও ভালো হয়। একাধিক জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ও আলোচক বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীর আত্মীয়স্বজনের ভিড় সামলানোই দুরূহ হয়ে পড়ে। এতে রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী এবং তাঁদের অনুসারীরা চিকিৎসায় বিঘ্ন ঘটান। একই অভিযোগ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও তোলা হয়। কেউ কেউ সম্পূর্ণ আলাদা জরুরি বিভাগ স্থাপনের প্রস্তাব দেন। অনেকে বলেন, সংবাদমাধ্যমকে তথ্য দেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা থাকা জরুরি। সাংবাদিকেরা সঠিক তথ্য প্রচার করলে হাসপাতালে মানুষের ভিড় কমে। ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ করছে এমএসএফ। সংস্থাটির প্রতিনিধি মো. জামিল বলেন, শুধু পরিকল্পনা থাকাই যথেষ্ট নয়, এটি নিয়ে ড্রিল বা চর্চা করতে হবে। ড্রিলের মাধ্যমেই বোঝা যাবে পরিকল্পনার ত্রুটি কোথায়।