মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত সম্প্রতি এক রায়ে ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশ স্থগিত করার পক্ষে মত দিয়েছে, যার ফলে দেশটির প্রায় অর্ধেক অঙ্গরাজ্যে এই নির্দেশ কার্যকর করা যাবে না। প্রথম সার্কিট কোর্ট অফ আপিলের বিচারকদের এই রায় আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পূর্বে মেইল-ইন ব্যালট সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করল।
মার্চ মাসে স্বাক্ষরিত ওই নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার পরিচালক এবং সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কমিশনারকে যোগ্য ভোটারদের একটি 'অঙ্গরাজ্য নাগরিকত্ব তালিকা' প্রণয়নের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মার্কিন ডাক বিভাগকে শুধুমাত্র সেই তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের কাছেই মেইল ব্যালট পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ট্রাম্প এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোকে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোটদান থেকে বিরত রাখার সুরক্ষাব্যবস্থা হিসেবে প্রচার করলেও, অঙ্গরাজ্যসমূহের নির্বাচন কর্মকর্তারা যুক্তি দেন যে এসব ব্যবস্থা অপব্যবহারের উপযোগী এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।
এ প্রেক্ষিতে ২৩টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার ডেমোক্র্যাটিক নেতৃত্ব বোস্টনের মার্কিন জেলা আদালতে এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে একটি মামলা দায়ের করে। তাদের অভিযোগ ছিল, এই নির্বাহী আদেশ অসাংবিধানিক, কারণ নির্বাচন সংক্রান্ত বিধি নির্ধারণের কর্তৃত্ব অঙ্গরাজ্য ও কংগ্রেসের হাতে, প্রেসিডেন্টের নয়। ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নিযুক্ত জেলা আদালতের বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানি বাদীপক্ষের যুক্তির সাথে একমত হয়ে আদেশটি ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের জন্য বাস্তবায়নে স্থগিতা দেন। তবে এই স্থগিতা কেবল মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর জন্যই প্রযোজ্য হয়।
বিচার বিভাগ থেকে রবিবার ইমেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সব ধরনের বিকল্প পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভাগটি বিশ্বাস প্রকাশ করে যে, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ শেষ পর্যন্ত বহাল হবে। আপিল আদালতের এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




