প্রযুক্তি জগতে নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণ সূর্য মিধা। মাত্র ২২ বছর বয়সেই তিনি বিলিয়নিয়ার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন, যা আগের রেকর্ডধারী মার্ক জাকারবার্গের চেয়েও কম বয়সে সম্ভব হয়েছে। সূর্যের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার দুই বন্ধু আদর্শ হিরেমাথ ও ব্রেন্ডন ফুডির সঙ্গে গড়ে তোলা স্টার্টআপ মারকোর (Mercor)।
মূলত এআই বিশেষজ্ঞদের সরবরাহকারী একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে মারকোর। ২০২৩ সালে যাত্রা শুরু করা এই স্টার্টআপটি বর্তমানে বিশ্বের বড় বড় এআই ল্যাবগুলোকে দুর্লভ দক্ষতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ—যেমন নামকরা চিকিৎসক, আইনজীবী, বিজ্ঞানী—জোগান দিচ্ছে। প্রতিদিন এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞদের পারিশ্রমিক হিসেবে ১৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে।
মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে মারকোরের সাফল্য চোখে পড়ার মতো। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কোম্পানিটির বার্ষিক আয় দাঁড়ায় ৫০ কোটি ডলারে। এর পরের মাসেই, অক্টোবরে, বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৩৫ কোটি ডলারের বিশাল তহবিল সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি। এই বিনিয়োগের পর পুরো কোম্পানির বাজারমূল্য এক হাজার কোটি ডলারে পৌঁছায়।
প্রতিষ্ঠানটিতে তিন প্রতিষ্ঠাতার প্রত্যেকের মালিকানা প্রায় ২২ শতাংশ। ফলে প্রত্যেকেই রাতারাতি ২২০ কোটি ডলারের মালিক হয়ে যান। তবে বয়সের দিক থেকে অন্য দুইজনের চেয়ে মাত্র দুই মাসের ছোট হওয়ায় ইতিহাসের পাতায় সূর্য মিধার নামই সর্বকনিষ্ঠ বিলিয়নিয়ার হিসেবে লেখা হয়েছে। উল্লেখ্য, ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ ২৩ বছর বয়সে বিলিয়নিয়ার হন।
সূর্যের জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউতে। তার শিকড় ভারতের দিল্লিতে, সেখান থেকে তার মা-বাবা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সিলিকন ভ্যালির প্রাণকেন্দ্র সান জোসেতে বেড়ে ওঠা সূর্য হাইস্কুলে পড়ার সময়ই প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। সেখানে আদর্শ হিরেমাথের সঙ্গে পরিচয় হয় এবং তারা এক বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রধান জাতীয় পলিসি ডিবেট টুর্নামেন্টের সব কটিতে চ্যাম্পিয়ন হন। পরে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন ব্রেন্ডন ফুডি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনায় ইস্তফা দিয়ে তারা পিটার থিয়েলের থিয়েল ফেলোশিপে যোগ দেন, যা মেধাবী তরুণদের স্টার্টআপ গড়ে তুলতে উৎসাহিত করে। সেখান থেকেই মারকোর যাত্রা শুরু। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটি বড় বড় এআই ল্যাবগুলোকে তাদের কাঙ্ক্ষিত বিশেষজ্ঞ সরবরাহ করছে।



