বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আমির খানের তৃতীয় বিয়ে নিয়ে সৃষ্ট ধর্মীয় বিতর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি। সম্প্রতি ৫ জুলাই মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজ বাসভবনে ৪৭ বছর বয়সী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেন ৬১ বছরের আমির। এরপরই বিভিন্ন মহল থেকে এই বিয়েকে ‘লাভ জিহাদ’ বলে চিহ্নিত করে সমালোচনা শুরু হয়। মুসলিম পারসোনাল দারুল ইফতার শাহি প্রধান মুফতি মাওলানা ইব্রাহিম হুসাইন এমনকি ফতোয়া জারি করে জানান, কোনো মুসলিম পুরুষ অমুসলিম নারীকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত না করে বিয়ে করতে পারেন না।
এ বিষয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খোলেন ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ খ্যাত এই অভিনেতা। রেডিফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব অভিযোগের জবাব দেন। আমির বলেন, তাঁর পরিবার অত্যন্ত উদার; যেখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে বিয়ের ঘটনা ঘটলেও কখনো ধর্মান্তরিত হওয়ার প্রশ্ন ওঠেনি। তাঁর দুই বোন হিন্দু পরিবারে বিবাহিত, মেয়ে ইরা খানও একজন হিন্দুকে বিয়ে করেছেন। চাচাতো ভাই মনসুর খ্রিষ্টান নারীকে বিয়ে করে সংসার পাতেন। ধর্ম পরিবর্তন প্রসঙ্গে আমির আরও জানান, গৌরী স্প্র্যাট, কিরণ রাও কিংবা রীনা দত্ত—কেউই তাঁদের ধর্ম বদলাননি, কারণ সব বিয়ে সিভিল ম্যারেজ হিসেবে সম্পন্ন হয়েছে। গৌরী স্প্র্যাট খ্রিষ্টান হলেও নিয়মিত ধর্মচর্চায় অভ্যস্ত নন।
ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে আমির বলেন, রীনা দত্তর সাথে প্রথম বিয়ের পর ২০০২ সালে বিচ্ছেদ ঘটে। ২০০৫ সালে কিরণ রাওকে বিয়ে করেন; ২০২১ সালে সেই দাম্পত্যের ইতি ঘটে। সর্বশেষ গৌরী স্প্র্যাটের সাথে বিয়েটি ছিল একান্ত ঘরোয়া আয়োজন, যেখানে মাত্র ১৫০ জনের মতো অতিথি উপস্থিত ছিলেন। অতিথি তালিকায় ছিলেন শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি, রাজনীতিক রাজ ঠাকরে, সিনেমা নির্মাতা অশুতোষ গোয়ারিকর ও রাজকুমার হিরানি, সাবেক ক্রিকেটার ইরফান পাঠান, কৌতুকশিল্পী বীর দাস, অভিনেত্রী এলি আভরাম, এবং পরিবারের সদস্যরা। আমিরের সন্তান জুনায়েদ ও ইরা এবং ইরার স্বামী নূপুর শিখারেও উক্ত অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
প্রায় ২৫ বছর আগে বেঙ্গালুরুতে আমিরের চাচাতো বোন নুজহাত খানের মাধ্যমে গৌরীর সাথে প্রথম পরিচয় হয়। দুই বছরের কিছু বেশি আগে আবার তাঁদের যোগাযোগ স্থাপিত হয়। গত বছরের মার্চে ৬১তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মুম্বাইয়ের গণমাধ্যমের সাথে গৌরীকে পরিচয় করিয়ে দেন আমির। দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সঙ্গীকে বিয়ে করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তবে আমিরের দৃঢ় অবস্থান, ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বন্ধনই সব ধর্মীয় বা সামাজিক বাধাকে অতিক্রম করে।


