বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন করিডর হরমুজ প্রণালীতে শিগগিরই শান্তি ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল, তা ভেঙে যাওয়ায় এই প্রণালী হয়ে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনে গুরুতর জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের দর এই ভূরাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থার পুরো চিত্র ধারণ করছে না। যদিও ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ৭৯ ডলারের আশেপাশে স্থিতিশীল রয়েছে, তবে হরমুজের অনিশ্চয়তার কারণে জ্বালানি রুটের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে তা মূল্য নির্ধারণে যথাযথভাবে বিবেচিত হচ্ছে না। বিশেষ করে এলএনজি পরিবহন খাতে ঝুঁকি অনেক বেশি, কারণ এই পথটি বিশ্বের প্রধান এলএনজি সরবরাহকারী দেশগুলোর জন্য অপরিহার্য।

এই পরিস্থিতি অপরিশোধিত তেলের দামের বাইরেও বৃহত্তর কর্পোরেট ঝুঁকি উন্মোচন করছে। জ্বালানি নির্ভর শিল্প, বীমা প্রতিষ্ঠান এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নিয়োজিত কোম্পানিগুলোর আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা বেড়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরে না আসলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ফলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, বাজার এই 'নীরব বিপদ'কে উপেক্ষা করে ভুল পথেই এগোচ্ছে।

তবে এখনও পর্যন্ত ওয়াল স্ট্রিটে তেমন আতঙ্ক দেখা যায়নি। বিনিয়োগকারীরা হয়তো সাময়িক সমাধানের আশায় রয়েছেন, কিন্তু হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকায় যে কোনো সময় পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে। ইরানের সাথে কূটনৈতিক সমাধানের পথ বন্ধ হলে তেলের দামে বড় উত্থান আসতে পারে, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত করবে।

সবমিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীর পুনরুজ্জীবিত এই ঝুঁকি জ্বালানি বাজারের জন্য একটি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি। বর্তমান বাজার মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি যে কেবল ভুলই নয়, বরং বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে, তা নিয়ে সংশয় ক্রমশ বাড়ছে।