পেপসিকো চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে ২৪.২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ২৩.৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির নিট আয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ২.৯৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে উত্তর আমেরিকার বাজার পরিস্থিতি তেমন সন্তোষজনক ছিল না। সেখানকার ভোক্তারা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে খরচ কমিয়ে দিয়েছিলেন, যার প্রভাব পড়ে পেপসিকোর পণ্য বিক্রিতে।

এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে সুপার বোলের সময় পেপসিকো মার্কিন বাজারে লে’স, ডরিটোস, চিটোস ও টোস্টিটোস চিপসের দাম ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছিল। বেশ কয়েক বছর ধরে মূল্যবৃদ্ধির পর ভোক্তাদের ক্রমবর্ধমান বিরক্তি প্রশমনের জন্যই এই উদ্যোগ। প্রথম ত্রৈমাসিকে দাম কমানোর কারণে স্ন্যাকসের চাহিদা কিছুটা বেড়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে এসে ইরান যুদ্ধের জেরে পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় উত্তর আমেরিকায় পেপসিকোর স্ন্যাকস বিক্রির পরিমাণ স্থির ছিল, আর পানীয় বিক্রি ৪ শতাংশ কমে যায়।

ইরানে চলমান সংঘাতের কারণে গত দুদিনে পেট্রোলের দাম আবারও বেড়েছে। যদিও পেট্রোলের দাম কিছুটা কমলে মার্কিন ভোক্তাদের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা উন্নত হয়েছে, তবে তাদের মনোভাব মূলত নেতিবাচকই রয়েছে। পেপসিকোর প্রধান কার্যালয় নিউ ইয়র্কের পারচেজ শহরে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা পণ্য আরও সাশ্রয়ী করতে বিনিয়োগ চালিয়ে যাবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অবশ্য পেপসিকোর বিক্রি ভালো হয়েছে। বিশ্বব্যাপী স্ন্যাকসের বিক্রির পরিমাণ ৩ শতাংশ এবং পানীয়ের বিক্রি ২ শতাংশ বেড়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাজারে আনা বিশেষ সংস্করণের পণ্য, যেমন পর্তুগিজ চোরিজো ও অনিয়ন স্বাদের লে’স চিপস, বিক্রি বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

ভোক্তাদের স্বাস্থ্যকর পণ্যের চাহিদা মেটাতেও উদ্যোগী হয়েছে পেপসিকো। গত মার্চ মাসে তারা গেটোরেড লোয়ার সুগার চালু করেছে, যাতে কোনো কৃত্রিম স্বাদ বা রং নেই। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে এককালীন খাত বাদ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২.১৮ ডলার, যা বিশ্লেষকদের ২.১৯ ডলারের পূর্বাভাসের চেয়ে কিছুটা কম। বৃহস্পতিবার প্রি-মার্কেট ট্রেডিংয়ে পেপসিকোর শেয়ারের দাম ১ শতাংশেরও কম কমেছে।

এই প্রতিবেদনটি মূলত ফরচুন ডটকম-এ প্রকাশিত হয়েছিল।