বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে ব্যবসা পরিচালনা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় রাজধানীর ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা ব্যবসার খরচ হ্রাস এবং সরকারি সেবা প্রাপ্তি সহজ করার দাবি তুলেছেন। তাঁরা ট্রেড লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়করণ, ব্যাংকঋণের সুদের হার কমানো, পণ্য আমদানির এলসি খোলার জটিলতা নিরসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি চান।

শনিবার নিউ ধানমন্ডি কনভেনশন হলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) উদ্যোগে ‘সার্বিক স্থানীয় ব্যবসা–বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এতে ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর এলাকার ১৫টি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা ও প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অংশ নেন।

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রশাসনিক জটিলতা, কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত অস্পষ্টতা এবং আইনশৃঙ্খলাজনিত কারণে ব্যবসায়ীরা বাধার মুখে পড়ছেন। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে দোকান ও শপিংমল বন্ধের নির্দেশের ফলে বিক্রি ও টার্নওভার কমে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে চলতি অর্থবছরের বাজেটে উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা, কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর হ্রাস এবং সিএমএসএমই খাতের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণার মতো উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। কিন্তু উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারের ব্যাংকঋণ নির্ভরতা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ হ্রাস করছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর বলেন, ট্রেড লাইসেন্সসহ সেবা গ্রহণে হয়রানি বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ডিসিসিআইয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন সপ্তাহ আয়োজনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. তারেক জুবায়ের জানান, চাঁদাবাজি ঠেকাতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার কয়েকটি সড়কে ইতিবাচক ফল দিচ্ছে এবং ‘স্মার্ট পুলিশিং–স্মার্ট সিটি’ প্রকল্প পুরো নগরে প্রসারের বিষয়টি বিবেচনাধীন বলেও জানান তিনি।

মুক্ত আলোচনায় ব্যবসায়ীরা চশমাশিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানি নীতিমালা সহজীকরণ, রিয়েল এস্টেটে সাইনিং মানির ওপর কর হ্রাস, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে প্রণোদনা প্রদান এবং ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের মেয়াদ এক বছর থেকে পাঁচ বছর করার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদের এলসি খোলার প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বানও জানানো হয়।

সভা শেষে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে ডিসিসিআইয়ের সদস্যপদ দেওয়া হয়। সভাপতি তাসকীন আহমেদ এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে সদস্যপদের সনদ তুলে দেন।