কঠিন বর্জ্যের কার্যকর ব্যবস্থাপনা বর্তমানে শুধু জাতীয় নয়, বরং একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ‘কার্যকর কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রোববার (১৩ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর অডিটোরিয়ামে এই সেমিনারের আয়োজন করে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশ–সুইসকন্টাক্ট বাংলাদেশ কনসোর্টিয়াম। মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ তাঁর বক্তৃতায় বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো জটিল সমস্যা মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। এখন এটি বিশ্বব্যাপী একটি সাধারণ সংকটে পরিণত হয়েছে, যার সমাধানে সকল অংশীজনের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক তার বক্তব্যে প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, থ্রি-আর (Reduce, Reuse, Recycle) কৌশল যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলেই কেবল এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। এর আগে সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের ডিরেক্টর (প্রোগ্রামস অ্যান্ড পলিসি অ্যাডভোকেসি) পার্থ হেফাজ সেখ। তিনি সেমিনারের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাঈফ মনজুর-আল-ইসলাম, টিম লিডার, গোফরইমপ্যাক্ট, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ-সুইসকন্টাক্ট বাংলাদেশ কনসোর্টিয়াম। পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৈয়দ আহম্মদ কবীর ‘কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আইনি কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও অংশীজনদের অংশগ্রহণ’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এরপর অনুষ্ঠিত হয় প্যানেল আলোচনা। এতে অংশ নেন আইটিএন-বুয়েটের পরিচালক অধ্যাপক রওশন মমতাজ, ইউএন অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেস (ইউএনওপিএস)-এর লিড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ার তারিক বিন ইউসুফ, দি সিটি ব্যাংক পিএলসি-এর অপারেশনাল হেড (সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স) মোল্লা করিমুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিবেশগত ছাড়পত্র) মাসুদ ইকবাল মো. শামীম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ শামসুল হক। তাঁরা কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে মত বিনিময় করেন।

সুইসকন্টাক্ট বাংলাদেশের ইন্সপায়ার প্রকল্পের টিম লিডার বিদৌরা তাহমিন খান সেমিনারের আলোচনার সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন এবং ভবিষ্যতে করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন। শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পার্থ হেফাজ সেখ। সেমিনারটি কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আইনি কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও অংশীজনদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে এবং এ বিষয়ে একটি সমন্বিত পথচলার বার্তা দিয়ে শেষ হয়।