সারা দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল আটটা থেকে আজ সোমবার সকাল আটটা) হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮০ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৮ জনের। সব মিলিয়ে মৃতের মোট সংখ্যা ৮৭৮ জনে পৌঁছেছে।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে বয়সভিত্তিক তথ্য না থাকায় কোন বয়সী মানুষ হাসপাতালে বেশি আসছেন বা কার মৃত্যু বেশি হচ্ছে, তা জানা যাচ্ছে না। রোগতত্ত্ববিদদের মতে, হাম সব বয়সের মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে যত মৃত্যু হয়, সেগুলোকে হামে মৃত্যু হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের নিয়ে পরিচালিত একটি গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৮০ শতাংশ শিশুই হামের টিকা পায়নি। অন্যদিকে, হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৫২ শতাংশের বয়স ছিল মাত্র ৯ মাসের কম। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) এবং শিশু হাসপাতালের ১৯ সদস্যের একটি গবেষক দল এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে ১৪ বছরের কম বয়সী ৩৪১ শিশুর ওপর এই গবেষণাটি পরিচালনা করে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আজকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ৯৯২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর মোট সংখ্যা ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩১২ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১৭ হাজার ২৭৮ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১৬৩ জন।
হাসপাতালগুলোতে ভর্তির তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ৩২২ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৯ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি বলেও জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের এবং বাকি দুইজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা। এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছিল, টিকার আওতা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ এখন হামের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।




