২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে তারকা ফুটবলার আনহেল দি মারিয়ার কাছে এ আসরের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় সেটি নয় বরং সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করার মুহূর্তটি। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে দি মারিয়া জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই জয়টিই আর্জেন্টাইন জনগণের জন্য সবচেয়ে বড় উল্লাস বয়ে এনেছে। তার মতে, সেদিনই বিশ্বকাপের আসল পরিসমাপ্তি ঘটেছে।
রোসারিও সেন্ট্রালের হয়ে ক্লাউসুরা টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে বেলগ্রানোর কাছে ২-১ গোলে হারের পর টিএনটি স্পোর্টসকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে দি মারিয়া বলেন, ‘ইংল্যান্ডকে হারানো সমগ্র দেশের জন্য অসাধারণ আনন্দের বিষয় ছিল। সেটি স্পষ্টভাবেই উপলব্ধি করা গেছে, আর তা আমাকে অত্যন্ত তৃপ্তি দিয়েছে। সবাইকে আমি চিরকৃতজ্ঞ।’ ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয় যেন আর্জেন্টাইনদের কাছে বিশেষ অর্থ বহন করে। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ফকল্যান্ড নিয়ে ব্যানার প্রদর্শন করেন, যা বর্তমানে ফিফার তদন্তাধীন।
দি মারিয়া আরও বলেন, ‘এই দল শুধু প্রশংসার নয়, তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু পাওয়ার যোগ্য। তারা যা অর্জন করেছে, আর ইংল্যান্ডকে পরাজিত করা—সেটিই ছিল সবকিছুর শ্রেষ্ঠত্ব। আমার কাছে বিশ্বকাপ সেখানেই শেষ। তারা দেশকে সবচেয়ে বড় আনন্দ দিয়েছে ওই দিন।’ এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার যাত্রা শুরু হয়েছিল শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে। নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে, মিসর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। ১৯ জুলাই ফাইনালে লিওনেল মেসির দলের পারফরম্যান্স সমর্থকদের নিরাশ করে। তবে টুর্নামেন্টজুড়ে দলের খেলা নিয়ে মোটের ওপর সন্তুষ্ট দি মারিয়া। তিনি বলেন, ‘প্রতি ম্যাচেই আমাদের কঠিন সংগ্রাম করতে হয়েছে। কিন্তু দল ভেতর থেকে সেই শক্তি খুঁজে বের করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত তাদের জয় এনে দিয়েছে। ফাইনাল কখনো জেতা যায়, কখনো যায় না। এবার হয়নি, কিন্তু তারা নীল-সাদা পতাকাকে উঁচুতে রেখেছে।’
সাক্ষাৎকারে লিওনেল মেসি ও কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গেও নিজের মতামত জানিয়েছেন দি মারিয়া। ৩৮ বছর বয়সী এই উইঙ্গার মেসি সম্পর্কে বলেন, ‘যত দিন সে নিজে ইচ্ছা করে, তত দিন জাতীয় দলে থাকা উচিত। আমার মতে, তার সামনে আরও দীর্ঘ পথ বাকি। ৩৯ বছর বয়সেও সে প্রমাণ করেছে ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় সে। তার কোনো সীমা নেই।’ বিশ্বকাপজয়ী কোচ স্কালোনি প্রসঙ্গে দি মারিয়ার বক্তব্য, ‘তিনি বর্তমানের স্কালোনি। সবার স্বার্থেই আমি চাই তিনি থাকুন। সামনে দারুণ এক প্রজন্মের তরুণ ফুটবলার অপেক্ষা করছে। শেষ পর্যন্ত তিনি কী চান, সেটি তিনিই জানেন। তবে আমি আশা করি তিনি চালিয়ে যাবেন।’
দি মারিয়ার মতে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টিই আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গৌরবময় অধ্যায়। তিনি মনে করেন, এই জয় দেশের মানুষের মনে চিরকাল অম্লান থাকবে।




