বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর (একাংশ) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নির্ধারিত সাংস্কৃতিক সমাবেশের অনুমতি বাতিল করে দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন। কর্মসূচির মাত্র তিন দিন আগে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয় সংগঠনটিকে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনের লক্ষ্যে আগামী ৩১ জুলাই (শুক্রবার) বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল উদীচীর।

গত ২২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর অনুমতি চেয়ে আবেদন করে সংগঠনটি। অনুমোদন পাওয়ার পর তারা পোস্টার ও প্রচারপত্র ছাপিয়ে কর্মসূচির ব্যাপক প্রচারণা শুরু করে। তবে হঠাৎ করেই ২৮ জুলাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি চিঠি এসে পৌঁছায়, যেখানে ‘অনিবার্য কারণবশত’ অনুমতি বাতিলের কথা বলা হয়। চিঠিতে কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছিল না।

প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন না উদীচীর একাংশের নেতারা। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ক্ষমতার বলপ্রয়োগের মাধ্যমেই প্রক্টর অফিসকে প্রভাবিত করে তাদের অনুষ্ঠান বাতিল করে অন্যদের কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচির জন্য নির্দিষ্ট একটি রেজিস্টার বা খাতা রাখা হয়, যেখানে তারিখ ও সংগঠনের নাম লিপিবদ্ধ থাকে। সেই খাতায় আগে থেকেই কোনো তারিখে কারও অনুষ্ঠান থাকলে একই দিনে অন্য কাউকে অনুমতি দেওয়ার কথা নয়। তার মতে, এখানে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশাসনিক কাঠামোকে ব্যবহার করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ইসরাফিল রতন গণমাধ্যমকে জানান, ৩১ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উদীচীর অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও পরে ভুলক্রমে একই তারিখে রাজনৈতিক সংগঠন গণসংহতি আন্দোলনকেও ওই স্থানে অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়ে যায়। গণসংহতি আন্দোলনের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। একই সময়ে দুই পক্ষের অনুষ্ঠান হলে সংঘাত বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে—এই আশঙ্কায় উদীচীর অনুমতি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।

প্রক্টর আরও বলেন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীকে অন্য কোনো ভেন্যুতে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুরোধ করা হয়েছিল এবং বিকল্প ভেন্যুও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা সংগঠনের পক্ষ থেকে কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। উদীচী প্রশাসনের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে তাদের অভিযোগে অনড় রয়েছে।