প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় টেকসই ও প্রকৃতিবান্ধব প্যাকেজিং উৎপাদনের লক্ষ্যে নতুন একটি কারখানা চালু করেছে ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেস। গাজীপুরের টঙ্গী শিল্পাঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত ব্র্যাক গ্রিনপ্যাক নামের এই কারখানাটি সম্পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছালে বার্ষিক ৩০০ থেকে ৩৫০ মেট্রিক টন জৈবপচনযোগ্য প্যাকেজিং উপকরণ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। বর্তমানে কারখানাটি মাসিক ১২ থেকে ১৫ মেট্রিক টন পণ্য উৎপাদন করছে, যা ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হবে।
বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ৪০ কোটির বেশি মেট্রিক টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়, যার প্রায় ৪০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় প্যাকেজিং খাতে। প্রচলিত প্লাস্টিকের পচতে ২০০ থেকে ৫০০ বছর সময় লাগে, অন্যদিকে ব্র্যাক গ্রিনপ্যাকের উৎপাদিত পণ্য মাত্র ছয় মাসের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। এই বৈশিষ্ট্যই এটিকে পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ের কার্যকর বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।
মঙ্গলবার টঙ্গীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কারখানাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ। তিনি বলেন, ব্যবসা শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যম নয়; বরং এটি ইতিবাচক সামাজিক ও পরিবেশগত পরিবর্তনের শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবেও কাজ করতে পারে। ব্র্যাক গ্রিনপ্যাকের মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস ও টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। তাঁর মতে, এই কারখানা উদ্ভাবন, দায়িত্বশীল ব্যবসা ও পরিবেশের প্রতি ব্র্যাকের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ঊর্ধ্বতন পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এবং প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা জানান, কারখানাটি পূর্ণ উৎপাদনক্ষমতায় পৌঁছালে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিকের ব্যবহার হ্রাস পাবে, যা পরিচ্ছন্ন ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। ব্র্যাক গ্রিনপ্যাক শুধু একটি উৎপাদন কেন্দ্র নয়, এটি পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও বহন করে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




