জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের জন্য ধবলধোলাই এড়ানোর লড়াই। অন্যদিকে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের জন্য এই ম্যাচটি ছিল তাদের বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষার একটি সুযোগ। ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশকে ঘরের মাঠে ও বিদেশে হোয়াইটওয়াশ করেছিল। এরপর গত ২৫ বছরে বাংলাদেশই জিম্বাবুয়েকে ছয়বার ধবলধোলাই করেছে। এবার সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ হেরে যাওয়ায় ২৫ বছর আগের সেই তিক্ত স্মৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের। শুক্রবার (১১ জুলাই) হারারেতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশ সেই শঙ্কা দূর করতে সক্ষম হয়। জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১৯৯ রানের লক্ষ্য ৭ উইকেটের ব্যবধানে পেরিয়ে যায় সফরকারীরা। তবে সিরিজের ফলাফল ২-১ ব্যবধানে জিম্বাবুয়ের পক্ষে গেছে।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ের শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি। শরীফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের নিখুঁত বোলিংয়ে ২৭ রানের মধ্যেই স্বাগতিকদের শীর্ষ তিন ব্যাটসম্যান প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। চতুর্থ উইকেটে ওয়েসলি মাধেভেরে ও অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ৫১ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তানভীর ইসলামের বলে রাজা ক্যাচ দিয়ে ফেরার পর একাই লড়াই চালিয়ে যান মাধেভেরে। তিনি ৭৪ বলে ৭৫ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন। শেষ দিকে ব্রাড ইভান্সের দ্রুতগতির ব্যাটিং জিম্বাবুয়ের স্কোরকে দুই রানের কাছাকাছি নিয়ে যায়। আগের ম্যাচেও ফিফটি পাওয়া ইভান্স ৪৩ বলে ৫০ রান করে আউট হন। তার বিদায়ের পর ১১ বল বাকি থাকতে জিম্বাবুয়ে ১৯৯ রানে অলআউট হয়।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ওপেনার তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকার দারুণ সূচনা এনে দেন। উদ্বোধনী জুটিতে তাঁরা ১৫১ রান যোগ করে বাংলাদেশের জয়ের পথ সহজ করে দেন। তবে শুরুতে দুই ওপেনারই ক্যাচ তুলে বেঁচে যান। সৌম্য ৮২ বলে ৬৯ রান করে ফিরে যান। তানজিদ হাসান সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে ছিলেন, কিন্তু ৯৭ রানে আউট হন। ৩৪তম ওভারে আরনেস্ট মাসুকুরের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দেন তিনি। সেই ওভারেই তাওহিদ হৃদয়ও আউট হন। তবে নাজমুল হোসেন শান্ত ও নুরুল হাসান জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। নাজমুল ২৮ বলে ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন। জিম্বাবুয়ে সিরিজের শেষ ম্যাচে তাদের তিন প্রধান পেসার রিচার্ড এনগারাভা, নিউম্যান নিউয়ামুরি ও ব্লেসিং মুজারাবানিকে বিশ্রামে রেখেছিল। ফলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা তুলনামূলকভাবে স্বাচ্ছন্দ্যে রান তোলার সুযোগ পান।

জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হারলেও বাংলাদেশ গত ২৫ বছরের রেকর্ড কিছুটা রক্ষা করতে পেরেছে। সে সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়েকে ছয়বার ধবলধোলাই করলেও এবার সিরিজ জিততে পারেনি। আগামী ১৫ জুলাই থেকে বুলাওয়েতে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ। এই সিরিজের সবকটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে বুলাওয়েতে।