যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া অঞ্চলে ‘ফ্রিডম ফুয়েল নেটওয়ার্ক’ নামে একটি ডিসকাউন্ট গ্যাস স্টেশন চালু হয়েছে, যেটির প্রচার নিজেই করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই নেটওয়ার্কের পেছনে কারা রয়েছে এবং কীভাবে তারা বাজারদরের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম দামে পেট্রোল সরবরাহ করছে, তা নিয়ে স্বচ্ছতার অভাবে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

প্রথম স্টেশনটি ফিলাডেলফিয়ার ড্রেশার এলাকায় একটি সুনোকো স্টেশনকে রূপান্তরিত করে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম রাখা হয়েছে ৩ দশমিক ৪৭ ডলার, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার প্রতীক। উল্লেখ্য, ফিলাডেলফিয়ায় ওই দিন পেট্রোলের গড় দাম ছিল ৩ দশমিক ৯৫ ডলার।

গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথম এই নেটওয়ার্কের কথা ঘোষণা করে বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এক ‘খুবই স্মার্ট খুচরা বিক্রেতা’ কম দামে জ্বালানি সরবরাহে এগিয়ে আসছে। কিন্তু তিনি কোম্পানির নাম প্রকাশ করেননি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রশাসনের কোনো সম্পর্ক নেই এবং নিউ জার্সি ও পেনসিলভানিয়ায় তাদের মোট ২৫টি স্টেশন রয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, মুনাফার মার্জিন কমিয়ে দিয়ে এই কম দাম সম্ভব হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সিবিএস নিউজকে কোম্পানিটির পরিচয় জানাতে অস্বীকৃতি জানান।

জ্বালানি বিশ্লেষক প্যাট্রিক ডি হ্যান কোয়ার্টজকে জানিয়েছেন, কোনো না কোনো ভর্তুকি ছাড়া এই মূল্য বাস্তবসম্মত নয়। তাঁর মতে, সাধারণত লোকসান হলে কাউকে না কাউকে তা পুষিয়ে দিতে হয়। তিনি আরও বলেন, গ্যাসবাডির ডাটাবেজে এই নেটওয়ার্কের বিভিন্ন স্টেশন বিভিন্ন নামে তালিকাভুক্ত, যা বিভ্রান্তিকর।

এদিকে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জিম ম্যাকগভার্ন অভিযোগ করেছেন, এই স্টেশনগুলো আসলে সরকারি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘সরকার-ভর্তুকিযুক্ত মুদি দোকান মানে কমিউনিজম, কিন্তু সরকারি গ্যাস স্টেশন মানে ফ্রিডম—বুঝলাম।’ ফ্রিডম ফুয়েল নেটওয়ার্কের নামে একটি নকল ওয়েবসাইটও তৈরি হয়েছে, যেখানে বিদ্রুপ করে বলা হচ্ছে, ‘আমাদের দাম আপনি হারাতে পারবেন না, কারণ আমাদের পাম্পই আপনি খুঁজে পাবেন না।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর আগের তুলনায় পেট্রোলের দাম আরও নেমে আসবে। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মে মাসে দেশব্যাপী পেট্রোলের গড় দাম বেড়ে ৪ দশমিক ৫৬ ডলারে পৌঁছেছিল, যা ২০২২ সালের রেকর্ড ৫ ডলারের পর সর্বোচ্চ। বর্তমানে জাতীয় গড় দাম প্রায় ৩ দশমিক ৭৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে ডি হ্যান সতর্ক করেছেন, ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারে হামলা এবং ইরানের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার কারণে আগামী সপ্তাহে দাম আবার বেড়ে যেতে পারে।

ফ্রিডম ফুয়েল নেটওয়ার্কের ওয়েবসাইটে ফিলাডেলফিয়া ও দক্ষিণ নিউ জার্সিতে ২৫টি লোকেশনের তালিকা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র তালিকাটি সঠিক বলে স্বীকার করলেও সব স্টেশন চালু আছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হননি। এই অনিশ্চয়তা ও অস্বচ্ছতা প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।