ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে মস্কোর পক্ষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতা রুশ সেনাবাহিনীর ওপর যেমন চাপ সৃষ্টি করছে, তেমনি দেশটির অর্থনীতিতেও দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রভাব। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিশ্লেষকদের একাংশ আশঙ্কা করছেন, নতুন করে আরেকটি সামরিক সংহতির ঘোষণা দিতে পারে রাশিয়া।

যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর ব্যাপক হতাহতের খবর সামনে আসছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্মুখভাগে টেকসই অভিযান চালাতে গিয়ে রুশ সেনাবাহিনী বিপুল পরিমাণ জনবল ও সরঞ্জাম হারাচ্ছে। এতে করে দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ অর্থনীতি চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। রুবলের মান ওঠানামা করছে, রাজস্ব আয় কমছে এবং সামরিক ব্যয়ের বোঝা দিন দিন বাড়ছে।

তবে এই প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও রাশিয়া যে সহজে পিছু হটবে না, তা স্পষ্ট। কিছু পর্যবেক্ষক মনে করছেন, ক্রেমলিন ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় নতুন করে সৈন্য সংগ্রহে নামতে পারে। বিশেষত, যুদ্ধের ময়দানে জনবল সংকট প্রকট আকার ধারণ করলে সরকারকে আরেকটি সংহতির মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

রুশ কর্তৃপক্ষ অবশ্য এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। তবে সামরিক ও কূটনৈতিক মহলে এ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রাশিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে নানা মহলে কৌতূহল ও শঙ্কা বিরাজ করছে।