জাপানের বেপ্পু শহরের পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত রিতসুমেইকান এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটিতে (এপিইউ) গত ৬ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হলো 'বাংলাদেশ উইক ২০২৬'। বিশ্বের শতাধিক দেশের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত এই ক্যাম্পাসে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে মঞ্চস্থ হয় বিশেষ নাটক।
কিশোর আলো (কিআর) পাতায় ২০২১ সালে প্রকাশিত লেখক গোলাম মমীতের 'একটা গোপন কথা' গল্পের আলোকে নির্মিত নাটকটির নাম রাখা হয়েছে 'ওয়ানা নো আ সিক্রেট?'। মূল গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ছোট্ট মুনিয়া, যে প্রতি রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে মায়ের সন্ধান করে। মেঘলা রাতে তারা খুঁজে না পেলে সে বাসার পেছনের শিউলি গাছের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলে, 'ডু ইউ ওয়ানা নো আ সিক্রেট? বাট ইউ হ্যাভ টু প্রমিস মি ইউ ওন্ট টেল এনিওয়ান...' — এই সংলাপে দর্শকাসনে কান্না ভেজা নীরবতা নেমে আসে, বহু দর্শকের চোখে পানি দেখা যায়।
গল্পে দেখা যায়, হঠাৎ এক রাতে মুনিয়ার মা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। একা হয়ে পড়া মুনিয়া মায়ের খোঁজে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। পথে সে পরিচিত হয় কানাভুলা, ডাইনি বুড়ি, কাপ্পা, স্প্রাইট ও খোক্ষসের মতো বিভিন্ন চরিত্রের সঙ্গে। জাপানি ভূত কাপ্পাদের নাচ 'আবার জিগায়' গানের তালে এবং 'এ হাওয়া' গানের সঙ্গে যাত্রার দৃশ্যসহ একের পর এক ঘটনার পরিক্রমায় এগোয় গল্প। সবাই যাচ্ছে 'ভালেতে', সঙ্গে যোগ দেয় মুনিয়াও।
বাংলাদেশ উইকের গ্র্যান্ড শোটি শুরু হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে' গানের মাধ্যমে। এরপর ফ্যাশন শোতে দেখা যায় বাংলাদেশের লোককথার চরিত্র বনবিবি, দক্ষিণ রায়, জলপরি, বেহুলা-লখিন্দর, মনসা, বেদের মেয়ে ও শাঁকচুন্নিকে। ফ্যাশন শো শেষে মঞ্চস্থ হয় আলোচিত নাটকটি।
সপ্তাহজুড়ে ক্যাম্পাসটি যেন ছোট্ট এক বাংলাদেশে পরিণত হয়েছিল। আয়োজনের মধ্যে ছিল বাংলাদেশি খাবারের স্টল, মেহেদি উৎসব, নব্বই দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের গানের মিউজিক্যাল শো এবং 'দেশি মুভি নাইট'-এ নুহাশ হুমায়ূনের 'পেট কাটা ষ' চলচ্চিত্র প্রদর্শন।
নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন মূল গল্পের লেখক গোলাম মমীত নিজেই। স্ক্রিপ্ট, সাউন্ড, লাইট, প্রপস, মেকআপ, কোরিওগ্রাফি এবং অভিনয় — সবকিছুই নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিনের অনুশীলনে তারা মঞ্চে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন বাংলাদেশের রূপকথার চরিত্রগুলো।
গ্র্যান্ড শোতে উপস্থিত ছিলেন জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী। তিনি এই আয়োজনের সঙ্গে জড়িত সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। বিদেশি শিক্ষার্থীরা এই নাটকের মাধ্যমে কানাভুলা, ডাইনি বুড়ি, খোক্ষসের মতো বাংলাদেশের লোককাহিনির চরিত্রগুলোর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়, যা সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।




