রাজধানীর মিরপুর এলাকায় যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় অস্ত্রসহ আটক চঞ্চল মোল্যাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ এ বিষয়ে শুনানি শেষে রিমান্ডের এই আদেশ দেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক ওয়াজেদ খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার মিরপুর-১৩ এলাকায়। সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে ইউসুফ আলী (৪০) নিহত হন। ওই সময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় চঞ্চল মোল্যাকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও চারটি গুলিসহ আটক করে পুলিশ। পরে কাফরুল থানার উপপরিদর্শক শ্যামল কুমার হালদার বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে, নিহত ইউসুফের বড় ভাই মাসুদ রানা হত্যা মামলা করেন। এই দুই মামলায় চঞ্চল, জিহাদ মোল্লা (৩৪), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯) ও হাসান (৩৫) নামে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে চঞ্চল ছাড়া বাকি তিনজন পলাতক রয়েছেন।
শনিবার অস্ত্র আইনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক ইউসুফ আলী ভূঁইয়া আসামি চঞ্চলকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার পেছনের কারণ, ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস এবং পলাতক আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সম্ভব। সেজন্য রিমান্ড প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।
অস্ত্র মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২৪ জুলাই রাত ১১টা ১২ মিনিটের দিকে কাফরুল থানাধীন মিরপুর-১৩ ব্লক-সি এলাকার ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশের লিংক রোডে দুই পক্ষের মধ্যে গুলির ঘটনা ঘটে। পূর্বপরিকল্পিতভাবে ইউসুফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। একটি গুলি তার বুকের ডান পাশে বিদ্ধ হয়ে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এই ঘটনায় এলোপাতাড়ি গুলিতে সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার (৪৫) ও পথচারী মনির হোসেন (৩২) আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইউসুফ মারা যান।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর-১৩ এলাকার একটি দোকানের সামনে থেকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় চঞ্চল মোল্যাকে আটক করা হয়। গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় তাকে প্রথমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চারটি গুলি জব্দ করা হয়।




