লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্সের মতো প্রতিপক্ষের বিপুল বেতনের তুলনায় ইয়াঙ্কিজের সাফল্য এখন জাজের স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করছে। মে মাসের ৩১ তারিখ থেকে ডান পাঁজরের স্ট্রেস ফ্র্যাকচারে মাঠের বাইরে থাকা এই ব্যাটসম্যানের সুস্থতার খবর ইতিবাচক হলেও, তার প্রত্যাবর্তনের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। সম্প্রতি অল-স্টার বিরতিতে তোলা নতুন চিত্রে কিছু মাত্রায় নিরাময়ের লক্ষণ দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন জাজ।
শুক্রবার ইয়াঙ্কি স্টেডিয়ামে জাজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘কেন খেলব না, তা আমি দেখছি না।’ তিনি আশাবাদী যে এই মৌসুমে তিনি খেলতে পারবেন। তবে ইয়াঙ্কিজ ম্যানেজার অ্যারন বুন কোনও সময়সীমা নির্ধারণ করতে রাজি নন। চিকিৎসকরা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি। টেক্সাসের অর্থোপেডিক সার্জন ড. গ্রেগরি পার্লের মতামতের অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই।
জাজের অনুপস্থিতিতে ইয়াঙ্কিজের পারফরম্যান্সে ধস নেমেছে। শেষ ৩৮ ম্যাচে তাদের রেকর্ড মাত্র ১৮-২০। দলটি বর্তমানে আমেরিকান লিগের দ্বিতীয় সেরা রেকর্ড নিয়ে থাকলেও, জাজ ছাড়া তাদের পোস্টসিজন সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ডজার্স তারকা মুকি বেটস বলেছেন, ‘এটা আমাদের জন্য ওহতানি ছাড়া খেলার মতো।’
কমিশনার রব ম্যানফ্রেড সম্প্রতি বেতন কাঠামো ও প্রতিযোগিতার সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, বড় বাজেটের দলগুলো প্লে-অফে এগিয়ে যাওয়ার সুবিধা পায়। গত বছর ৪১৭.৩ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা ডজার্সের বিপরীতে ব্রিউয়ার্সের বেতন ছিল ১৪৩.৬ মিলিয়ন ডলার। ন্যাশনাল লিগ চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজে ডজার্স ব্রিউয়ার্সকে সহজেই হারিয়েছিল।
বর্তমানে ডজার্স ৬২-৩৬ রেকর্ড নিয়ে শীর্ষে, আর ব্রিউয়ার্স ৬০-৩৭ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। ইয়াঙ্কিজের বেতন ৩৩৬.৭ মিলিয়ন ডলার, যা লিগে তৃতীয় সর্বোচ্চ। তবে একই বিভাগে রে-স ১০৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেও ইয়াঙ্কিজের চেয়ে আড়াই গেম এগিয়ে।
ম্যানফ্রেড বেতন সীমা (স্যালারি ক্যাপ) চালুর পক্ষে মত দিলেও খেলোয়াড় ইউনিয়ন এর বিরোধীতা জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘বড় বাজেটের দলগুলোর প্লে-অফে যাওয়ার সুযোগ নাটকীয়ভাবে বেশি। প্রতিটি রাউন্ডে সেই সুযোগ আরও বাড়ে।’
ইয়াঙ্কিজ ২০০৯ সালের পর বিশ্ব সিরিজ জিততে পারেনি। জাজ ছাড়া দলটি ২০২৪ সালের বিশ্ব সিরিজে ডজার্সের কাছে হেরে যাওয়া দলের চেয়েও দুর্বল বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে ডজার্স ওহতানি, বেটস ও ফ্রেডি ফ্রিম্যানের নেতৃত্বে টানা তৃতীয় বিশ্ব সিরিজ জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
জাজ বলেন, ‘এই দলটির বিশেষত্বের কারণে আমি সবকিছুর অংশ হতে চাই। ক্লাবহাউসে অনেক দুর্দান্ত খেলোয়াড় রয়েছে যারা নিজেদের মতো করে দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। বসে থেকে দেখা খুব হতাশাজনক ও কঠিন।’ তবে তাঁর ফিরে আসা ছাড়া ইয়াঙ্কিজের বিশ্ব সিরিজ জেতা কঠিন হবে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

