নরওয়ের রাজা হ্যারাল্ড পঞ্চমকে গুরুতর অসুস্থতার কারণে রাজধানী অসলোর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ৮৯ বছর বয়সী এই বয়স্ক সম্রাট ইউরোপের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে সিংহাসনে আসীন থাকা রাজাদের মধ্যে একজন হিসেবে পরিচিত। রয়্যাল প্যালেসের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, রাজা বিরল একটি রক্তরোগে ভুগছেন যার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।
চিকিৎসকদের সুপারিশ অনুযায়ী রাজাকে অসুস্থতাজনিত ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং এই সময়ে তিনি তার সরকারি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। প্রাসাদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং চিকিৎসা চলছে। তবে এই মুহূর্তে রাজা কতদিন হাসপাতালে থাকবেন বা কবে থেকে স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করতে পারবেন সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
১৯৯১ সালে সিংহাসনে আরোহণ করেন রাজা হ্যারাল্ড। তার বাবা রাজা ওলাভ পঞ্চমের মৃত্যুর পর তিনি দেশের শাসনভার গ্রহণ করেন। এরপর থেকে প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নরওয়ের রাজা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার দীর্ঘ শাসনকাল নরওয়ের আধুনিক ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হয়ে আছে।
বিগত কয়েক বছর ধরেই রাজা হ্যারাল্ডের স্বাস্থ্যগত সমস্যা বারবার সামনে আসছে। বয়সজনিত নানা জটিলতার কারণে তাকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি ছুটিতেও যেতে হয়েছে। এর আগে ২০২০ সালে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এছাড়া ২০০৫ সালে ক্যান্সারের চিকিৎসাও নিয়েছিলেন তিনি।
এই বিরল রক্তরোগটি কী নামে পরিচিত বা এটি কতটা মারাত্মক — তা নিয়ে প্রাসাদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে নরওয়ের সংবাদমাধ্যমগুলো ধারণা করছে, এটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে এমন একটি জটিল রোগ।
রাজা হ্যারাল্ডের অসুস্থতার খবরে নরওয়ের জনগণের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে দেশটির সাধারণ মানুষ রাজার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে পোস্ট দিচ্ছেন। প্রাসাদের বাইরেও অনেকেই ফুল ও কার্ড রেখে তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করছেন।
নরওয়ের সংবিধান অনুযায়ী, রাজা অসুস্থ থাকাকালীন তার দায়িত্ব পালনের জন্য প্রিন্স ক্রাউন হাকন ম্যাগনাসকে সাময়িকভাবে রাজপ্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।




