প্রতি বছর ২৮ জুলাই সারাবিশ্বে পালিত হয় ‘বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস’। প্রকৃতির সুরক্ষা ও সংরক্ষণের অপরিহার্যতার বার্তা স্মরণ করিয়ে দিতেই দিবসটির আয়োজন। মানবজাতিকে প্রকৃতি রক্ষার তাগিদ দেওয়া এবং পরিবেশ-সহায়ক জীবনযাপনে উৎসাহিত করাই এই দিনের মূল উদ্দেশ্য।
এ উপলক্ষ্যে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় দমদমিয়া আলোর পাঠশালা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে আয়োজিত এই সেমিনারে প্রধান শিক্ষক শ্রী রাজেশ কুমার কানু, পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি নুর মোহাম্মদসহ অন্যান্য শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে আরও ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক সৈয়দ নুর, সহকারী শিক্ষক রবিউল আলম এবং আমান উল্লাহ।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় প্রধান শিক্ষকের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। আলোচনার ধারায় সৈয়দ নুর প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার ওপর জোর দেন। প্লাস্টিক দূষণ ও পরিবেশের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব কীভাবে কমানো যায়, সেই বিষয়ে বক্তব্য রাখেন সহকারী শিক্ষক রকিউল আলম। অন্যদিকে, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন সহকারী শিক্ষক আমান উল্লাহ।
প্রধান শিক্ষক শ্রী রাজেশ কুমার কানু তাঁর বক্তৃতায় বলেন, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্যই প্রকৃতিকে রক্ষা করা অপরিহার্য। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “প্রকৃতি রক্ষায় ব্যর্থ হলে আমাদের ভবিষ্যৎ জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।” মানুষের নানাবিধ কর্মকাণ্ড প্রতিদিন প্রকৃতিকে ধ্বংস করে চলেছে, তাই সচেতন হওয়ার এখনই সময়। তিনি প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা, শক্তির অপচয় বন্ধ করা, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা এবং ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর ভাষায়, ব্যক্তিগত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাই আমাদের এই পৃথিবীটিকে বাসযোগ্য করে গড়ে তুলবে।
আলোচনা পর্ব শেষ হওয়ার পর, উপস্থিত সকল শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য শপথ পাঠ করানো হয়। সবশেষে, ‘প্রকৃতি সংরক্ষণে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক একটি উপস্থিত বক্তৃতা ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতার সমাপ্তিতে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ হিসেবে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।




