যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কমিটির সামনে বুধবার সকালে হাজিরা দিয়েছেন ড. অ্যান্থনি ফাউচি। এদিন তিনি তাঁর সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। সিনেটর র্যান্ড পল সম্প্রতি ফাউচির এক হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠার ডায়েরি প্রকাশ করার পর এই শুনানি অনুষ্ঠিত হলো।

শুনানি চলাকালে ফাউচি সিনেটর পলকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, তাঁর প্রতি এই সিনেটরের এক ধরনের ‘উন্মুক্ত আচ্ছন্নতা’ রয়েছে। ফাউচির মতে, এই দীর্ঘস্থায়ী মনোভাব পেশাদারি নয় বরং ব্যক্তিগত। নিজের ডায়েরি নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের জবাবে ফাউচি মার্কিন সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর আওতায় স্বীভক্তি না করার সুবিধা গ্রহণ করেন, যাতে তাঁর কোনো মন্তব্য আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত না হতে পারে।

গত সপ্তাহে কেন্টাকির এই রিপাবলিকান সিনেটর ফাউচির ব্যক্তিগত দিনলিপির বড় একটি অংশ ফাঁস করে দেন, যা করোনাভাইরাস মহামারি সংক্রান্ত তৎকালীন প্রতিক্রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ফাউচি ও র্যান্ড পলের মাঝে দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়; মহামারির সময় থেকেই জনস্বাস্থ্য নীতিমালা, মাস্ক পরিধান এবং টিকাকরণ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রকাশ্য বাদানুবাদ চলছিল। ফাউচির মতে, পলের এই ধারাবাহিক পদক্ষেপ মহামারি পরবর্তী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ইতিবাচক আলোচনার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

শুনানির পর র্যান্ড পলের প্রতিক্রিয়ায় জানান, ফাউচির নীরব থাকার সিদ্ধান্ত আসলে জবাবদিহিতা এড়ানোর একটি চেষ্টা মাত্র। তিনি দাবি করেন, মার্কিন জনগণ জানতে চায় যে মহামারিকালে কী কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং এর পেছনের যুক্তিগুলো কী ছিল। অপরপক্ষে, ফাউচির সমর্থকেরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এই ডায়রির পৃষ্ঠাগুলো বেছে বেছে প্রকাশ করা হয়েছে এবং ফাউচি যথাযথভাবেই তাঁর সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন।