রাজধানীর মিরপুর এলাকায় গুলিতে এক যুবদলকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) দাবি করেছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা ছিল যার মূল লক্ষ্য ছিলেন অন্য একজন। ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার রাতে মিরপুর ১৩ নম্বরে। এতে প্রাণ হারান যুবদলকর্মী মো. ইউসুফ (৪৫)। এছাড়া আহত হন আরও দুজন—যুবদলকর্মী মনির হোসেন (৩২) ও সবজিবিক্রেতা সালাম সরদার (৪৫)।
সোমবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার জন্যই এই আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ওই নেতার সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় টেন্ডার, ফুটপাতের দোকান, ব্যবসা ও একটি টিনশেড বাড়ির দখল নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই বাবুকে খুনের ছক কষা হয়।
ডিবি জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে চার পেশাদার শুটার ভাড়া করা হয়। চুক্তির পরিমাণ ছিল ২৫ লাখ টাকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৯ জুন প্রথমবার হত্যাচেষ্টা চালানোর প্রস্তুতি নেয়া হলেও পিস্তলে গুলি ভরার সময় ‘মিসফায়ার’ হওয়ায় তা ভেস্তে যায়। এরপর ২২ জুলাই শুটাররা আবার ঢাকায় আসে এবং মিরপুর-২ এলাকার একটি হোটেলে অবস্থান নেয়। ২৩ জুলাই রাতে তারা হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়।
ঘটনার রাতে (২৪ জুলাই) বাবুর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা। তারা নিজেদের মিরপুর-১০ এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশির চেষ্টা করলে একজন অস্ত্র বের করে ইউসুফের বুকে গুলি করে। এ সময় এলোপাতাড়ি গুলিতে মনির ও সালাম আহত হন। হামলার পর পালানোর সময় স্থানীয় জনতা অস্ত্রধারী চঞ্চলকে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এখন পর্যন্ত আট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন চঞ্চল (৩৪), জিহাদ মোল্লা (৩০), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মাসুম বিল্লাহ (২৮), নাহিদ হাসান (২১), আবির হাওলাদার (২৫), আলী হোসেন (৪৫) ও শাফিন আহমেদ (২২)। এছাড়া অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে নাহিদ ও শাফিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে বাকিদের বিভিন্ন জেলা থেকে আটক করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডে সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই—রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে তাদের সন্ত্রাসী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, হাফিজুর রহমান (সিএনজি হাফিজ) তাদের ভাড়া করে এনেছিলেন। পুলিশ একটি অস্ত্র উদ্ধার করলেও অন্য অস্ত্রগুলোর উৎস শনাক্ত করতে কাজ চলছে।
ডিবি আরও জানায়, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে। হাফিজুর রহমানকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ২৫ লাখ টাকার চুক্তির একটি অংশ অগ্রিম পরিশোধ করা হয়েছিল, পাশাপাশি হোটেল ভাড়া ও খাওয়ার খরচও বহন করা হয়। এই ঘটনায় কাফরুল থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে, যার একটি বর্তমানে ডিবি তদন্ত করছে।




