চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাধীন বড় দীঘিরপাড়-ভাটিয়ারি লিংক রোডসংলগ্ন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে গতকাল রোববার ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুষ্কৃতকারীরা চাঁদা দাবি করায় তা না পেয়ে ভবনটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনার পর থেকে ভবনের মালিক ও এলাকাবাসী চরম আতঙ্কে রয়েছেন। নির্মাণশ্রমিকেরাও ভয়ে কাজে যোগ দিচ্ছেন না, যার ফলে ভবনটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি থমকে গেছে।

ভবনটির মালিক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন নামের একজন ব্যবসায়ী। তাঁর চাল ও চিনির পাইকারি ব্যবসা রয়েছে। কয়েক মাস আগে তিনি ১০ তলা বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন। গতকাল সকালে মুখে মাস্ক পরা ৮ থেকে ১০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি একটি টেম্পোযোগে এসে নির্মাণাধীন ভবনের সামনে নামে। তখন সেখানে শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। সশস্ত্র ওই দলটি ভবনে ঢুকে প্রথমে শ্রমিকদের মারধর শুরু করে। এরপর ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে ফেলে। একপর্যায়ে হাসান সাকি নামের এক শ্রমিককে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে জখম করে তারা। ভবনের নিরাপত্তাকর্মী কুরবান আলীও মারধরের শিকার হন। তিনি জানান, সন্ত্রাসীরা তাকেও মারধর করে। রাতে ব্যথায় ঘুমাতে পারেননি তিনি। এখন আবার হামলার ভয়ে আছেন।

ঘটনার পর রাতেই ভবনের মালিক জসিম উদ্দিন হাটহাজারী থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, সন্ত্রাসীরা প্রথমে ২০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিল। তা না দেওয়ায় ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। মামলা করার পর এখন তারা ফোন করে ৫০ লাখ টাকা দাবি করছে। না দিলে আবারও হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে কোনো নির্মাণশ্রমিক কাজে আসছেন না। সকালে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কেউ আসতে রাজি হননি। আগে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ জন শ্রমিক ভবনে কাজ করতেন। এখন সব কাজ বন্ধ। মামলা করার পরও কাউকে গ্রেপ্তার না হওয়ায় তিনি নিজেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এলাকাবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বড় দীঘিরপাড় এলাকায় নির্মাণাধীন ৮ থেকে ১০টি ভবনে ফোন করে চাঁদা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অতীতে এ ধরনের ঘটনা এখানে কখনো ঘটেনি। এলাকাবাসীর উদ্যোগে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বড় দীঘিরপাড়ের অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়কে মানববন্ধন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, চাঁদা দাবি ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার অ্যাকসেস রোডে ডিডিএন নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের হামলা চালিয়েছিল সন্ত্রাসীরা। সেই ঘটনায় র্যাব-পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে।