যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার যৌথ একটি মহাকাশ অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কাজাখস্তানের বাইকোনুর কসমোড্রোম থেকে রওনা হয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) পৌঁছেছেন তিন নভোচারী। রুশ মহাকাশ সংস্থা রসকসমসের সয়ুজ এমএস-২৯ মহাকাশযানে করে ওই অভিযাত্রীরা স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৪৭ মিনিট) যাত্রা শুরু করেন। উৎক্ষেপণের প্রায় তিন ঘণ্টা পর স্বয়ংক্রিয় মোডে তাদের মহাকাশযানটি আইএসএস-এর সঙ্গে সফলভাবে সংযুক্ত হয়।
এই অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা হলেন—যুক্তরাষ্ট্রের নাসার নভোচারী অনিল মেনন ও রুশ নভোচারী পিওত্র দুবরভ এবং আনা কিকিনা। তাঁরা আগামী আট মাস আইএসএস-এ অবস্থান করবেন। মেননের জন্য এটি প্রথম মহাকাশ ভ্রমণ, অন্যদিকে দুবরভ ও কিকিনার জন্য এটি দ্বিতীয়। তাঁদের আগমনের পর আইএসএস-এ বর্তমানে মোট নয়জন নভোচারী অবস্থান করছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন নাসার জেসিকা মেইর, জ্যাক হ্যাথাওয়ে ও ক্রিস উইলিয়ামস, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সোফি অ্যাডেনট এবং রসকসমসের সের্গেই কুড-সভেরচকভ, সের্গেই মিকায়েভ ও আন্দ্রেই ফেদ্যায়েভ।
উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান। আট বছরের মধ্যে এটি কোনো নাসা প্রধানের বাইকোনুর সফর ছিল। আইজ্যাকম্যান উৎক্ষেপণের আগের দিন রসকসমসের প্রধান দিমিত্রি বাকানভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সোমবারের ওই বৈঠকে তিনি রসকসমসের প্রস্তুতিমূলক কাজের প্রশংসা করে বলেন, 'গত কয়েক মাসের সমন্বিত কাজে জড়িত সবার পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা প্রতিফলিত হয়েছে।' এছাড়াও আইজ্যাকম্যান রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মানতুরভের সঙ্গেও বৈঠক করেন। মানতুরভের কার্যালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, তাঁরা আইএসএস ও অন্যান্য প্রকল্পে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
স্নায়ুযুদ্ধের সময় মহাকাশ প্রতিযোগিতায় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া আইএসএস প্রকল্পে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা করে আসছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের পর এই সম্পর্কে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হলেও মহাকাশে সহযোগিতা বজায় রাখা হয়েছে। দুই দেশের নভোচারীরা এখন নিয়মিতভাবে একে অপরের মহাকাশযানে চড়ে আইএসএস-এ যাতায়াত করেন। তবে নাসার চন্দ্র অনুসন্ধান কর্মসূচি আর্টেমিসে রুশ অংশগ্রহণের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রাশিয়া জ্বালানি ও প্রযুক্তি আমদানির জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায়, রসকসমস এখন চীনের সঙ্গে যৌথ চন্দ্রাভিযানের পরিকল্পনা শুরু করেছে।


