হলিউডের জনপ্রিয় গায়িকা ও অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজ সম্প্রতি জানিয়েছেন, দামি ঘড়ি, বিলাসবহুল গাড়ি কিংবা ব্যক্তিগত বিমানের মতো বস্তু একজন পুরুষকে তাঁর কাছে আকর্ষণীয় করে তোলে না। বরং তিনি মনে করেন, একজন পুরুষের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো তার প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্নশীল আচরণ। গত ১৬ জুলাই ইতালির সিসিলির টাওরমিনা শহরের ইসোলা বেলা নামক স্থানে ডলচে অ্যান্ড গাব্বানা আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে মঞ্চে পারফর্ম করার সময় নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পছন্দ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন ৫৬ বছর বয়সী এই তারকা। ২৪ জুলাই তাঁর ৫৭তম জন্মদিনের আগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে পারফরম্যান্সের ফাঁকে তিনি স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরশীলতা ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক যত্নের গুরুত্ব নিয়ে দর্শকদের সঙ্গে হালকা মেজাজে কথা বলেন। একপর্যায়ে তিনি মঞ্চে নিজের পুরুষ ব্যাকআপ নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে মজার কথোপকথন করেন এবং একজনকে কৌতুক করে চুল ঠিক করে দিতে বলেন। এরপর হেসে হেসে তিনি অন্যদের উদ্দেশে বলেন, তাঁর টাকার প্রয়োজন নেই; এমনকি দামি উপহারেরও কোনো দরকার নেই। দর্শকদের উদ্দেশে লোপেজ বলেন, বহু বছর ধরেই মানুষ তাঁকে ‘দামি’ একজন নারী হিসেবে দেখে। নিজের বহুল আলোচিত স্পার্কলি কাপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মজা করে স্বীকার করেন যে তিনি সত্যিই ‘দামি’। তবে তিনি নারীদের মনে করিয়ে দেন, তাঁদের নিজেদের উপার্জন রয়েছে, তাই কোনো কিছু কিনে দেওয়ার জন্য অন্য কারও ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। যদিও সঙ্গী যদি ভালোবেসে কিছু উপহার দিতে চান, সেটা অবশ্যই ভালো লাগে। এরপরই লোপেজ স্পষ্ট করেন, একজন পুরুষের কোন গুণ তাঁকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে। তিনি বলেন, 'জানো, একজন পুরুষকে সত্যিকারের আকর্ষণীয় করে তোলে কী? সেটা ঘড়ি নয়, গাড়ি নয়, ব্যক্তিগত বিমানও নয়। অবশ্য এগুলো ভালো লাগতেই পারে। কিন্তু সত্যিকারের আকর্ষণীয় লাগে, যখন দেখি সে সকালে নিজের বিছানা গুছিয়ে রাখে বা রাতে আমি ক্লান্ত থাকলে আমার জন্য বাসন ধুয়ে দেয়।' লোপেজ আরও যোগ করেন, 'এটাই আমার কাছে সেক্সি। সত্যিই এটাকেই আমি সেক্সি বলি। কারণ, নারীরাই তো প্রায় সব কাজ করে থাকি।' ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সব সময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা জেনিফার লোপেজের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন তাঁর ব্যক্তিগত জীবন দীর্ঘদিন ধরেই জনসমক্ষে আলোচিত। তিনি চারবার বিয়ে করেছেন। প্রথম স্বামী ছিলেন ওজানি নোয়া (১৯৯৭-১৯৯৮)। এরপর নৃত্যশিল্পী ক্রিস জাডকে বিয়ে করেন, যা ২০০৩ সালে বিচ্ছেদে শেষ হয়। ২০০৪ সালে গায়ক মার্ক অ্যান্থনিকে বিয়ে করেন লোপেজ। তাঁদের যমজ সন্তান ম্যাক্স ও এমে রয়েছে। ২০১৪ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর সাবেক বেসবল তারকা অ্যালেক্স রদ্রিগেজের সঙ্গে তাঁর বাগদান হলেও ২০২১ সালে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। সবশেষে ২০০০-এর দশকের শুরুতে আলোচিত প্রেমিক বেন অ্যাফ্লেকের সঙ্গে পুরোনো সম্পর্ক নতুন করে শুরু করেন লোপেজ। ২০২২ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। তবে ২০২৪ সালে আলাদা হয়ে যাওয়ার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁদের বিচ্ছেদ আইনিভাবে চূড়ান্ত হয়।