বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৯ জুলাই। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়, আর দ্বিতীয় উপন্যাস ‘শঙ্খনীল কারাগার’ বের হয় ১৯৭৪ সালে। এই দুটি বই প্রকাশের পর থেকেই তিনি শক্তিশালী লেখক হিসেবে পাঠকমহলে বিশেষভাবে সমাদৃত হন। সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখকশিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদকসহ আরও অনেক পুরস্কার অর্জন করেন।

আজ রোববার সকাল থেকেই লেখকের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে তাঁর হাতে গড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সকালে কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে তাঁর অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর বের করা হয় শোক শোভাযাত্রা। এছাড়া চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন রাখা হয়েছে। দিনের শেষভাগে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। ধর্মীয় আচার হিসেবে কোরআনখানি, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিকেলে কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদে কেন্দুয়া রিপোর্টার্স ক্লাব ও চর্চা সাহিত্য আড্ডার যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে জেলা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় হুমায়ূন আহমেদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগেও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করছে।

হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস, নাটক ও চলচ্চিত্র বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অম্লান ছাপ ফেলেছে। তাঁর সৃষ্ট চরিত্র ও গল্প এখনো পাঠক ও দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে আছে। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর ভক্ত-অনুরাগী ও বিভিন্ন সংগঠনের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে তিনি বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকবেন চিরকাল।