স্লোভেনিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ অবসরে চলে যাচ্ছেন। বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার মাত্র সাত দিন পরই এই ঘোষণা এল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে অতিরিক্ত সময়ে তোরেসের গোলে স্পেন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়। ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজকে লাল কার্ড দেখান ভিনচিচ। ম্যাচোত্তর এক অপ্রীতিকর ঘটনায় আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্পেনের গাভিকে মাটিতে ফেলে দিলেও তাকে কোনো কার্ড দেখাননি রেফারি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে ফিফা।

ভিনচিচের ক্যারিয়ারজুড়ে রয়েছে অসংখ্য বড় মঞ্চের দায়িত্ব। ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের লড়াই তিনি পরিচালনা করেন। এর আগে ২০২২ সালে ইউরোপা লিগ ফাইনাল এবং ২০২১ সালে সেই প্রতিযোগিতার ফাইনালে চতুর্থ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ইউরো ২০২০ ও ২০২৪ আসরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার, যার মধ্যে ২০২৪ সালে স্পেন-ইতালি সেমিফাইনালও রয়েছে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তিনি দুটি ম্যাচ পরিচালনা করেন, যার মধ্যে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সৌদি আরবের চমকপ্রদ জয়ের ম্যাচও ছিল।

এবারের বিশ্বকাপে মোট চারটি ম্যাচ পরিচালনা করেন ভিনচিচ—গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল-মরক্কো ও জর্ডান-আলজেরিয়া, শেষ ষোলোয় মেক্সিকো-ইকুয়েডর এবং সবশেষে ফাইনাল। মেক্সিকো-ইকুয়েডর ম্যাচে তিনি নতুন নিয়ম ভেঙে ইকুয়েডরের পিয়েরো হিনকাপিয়েকে লাল কার্ড দেখান। ২০১৯ সাল থেকে উয়েফার এলিট রেফারি প্যানেলের সদস্য ভিনচিচ ২০২২ সালে আইএফএফএইচএসের সেরা রেফারি নির্বাচিত হন। ইতালিয়ান রেফারি সংগঠন এআইএ তাকে জুলিও কাম্পানাতি পুরস্কার প্রদান করে, যা বিশ্বকাপ বা ইউরোর সেরা কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়।

ফেডারেশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভিনচিচের এই মৌসুমকে আগে থেকেই তার পেশার ‘বিদায়ী মৌসুম’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ফাইনালের সমালোচনার জেরে হঠাৎ করে নয়, বরং পরিকল্পিতভাবেই তিনি বিশ্বকাপকে ক্যারিয়ারের শেষ ধাপ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। ২০১২ সালের ইউরোতে ষষ্ঠ রেফারি হিসেবে যাত্রা শুরু করে তিনি ১৪ বছরের দীর্ঘ পথচলায় উয়েফার শীর্ষ দুই ক্লাব প্রতিযোগিতায় ৭২টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। তুরস্কের সুপার লিগে গালাতাসারাই ও ফেনারবাচের মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ ম্যাচও তাঁর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চ বিশ্বকাপ ফাইনাল দিয়েই পর্দা নামালেন এই স্লোভেনিয়ান রেফারি।