চাঁদপুর নগরীর হাজী মুহসীন রোড এলাকায় অবস্থিত ‘সিপি হেয়ার জোন’ সেলুনে সেবা গ্রহণের পর এক গ্রাহকের কাছ থেকে অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ বিল আদায়ের ঘটনা সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে। ফারুক আহমেদ নামের ওই ব্যক্তি সেখানে গিয়ে চুল কাটানো, শেভ করানো এবং মুখ ও ঘাড়ে ফেসিয়াল করানোর সেবা গ্রহণ করেন। সব মিলিয়ে তাঁকে ২ হাজার ৫০০ টাকা বিল দেওয়া হয়। তিনি শেষ পর্যন্ত ২ হাজার টাকা পরিশোধ করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। বিষয়টি তাঁর কাছে অযৌক্তিক মনে হওয়ায় পরবর্তীতে তিনি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার দুপুরে চাঁদপুর শহরের উক্ত এলাকায় সেলুনটিতে অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চাঁদপুর জেলা কার্যালয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল ইমরান। অভিযানকালে তদন্তকারীরা যাচাই করে দেখেন, সেলুনে কোনো সেবার মূল্যতালিকা দৃশ্যমান স্থানে টাঙানো নেই। গ্রাহকদের কাছে মূল্যতালিকা দেখানোর নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তা করা হয় না; কেউ বিশেষভাবে চাইলে কেবল তখন তা বের করে দেখানো হয় বলে জানা যায়। আরও জানা যায়, নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া যায়।
আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সেলুনের মূল্যতালিকায় ছেলেদের চুল কাটার খরচ ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত, শেভের খরচ ১০০ টাকা এবং ফেসিয়ালের খরচ ৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৭২০ টাকা পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ফারুক আহমেদের কাছ থেকে নেওয়া দুই হাজার টাকার হিসাবের সঙ্গে এই তালিকার কোনো সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি।
অভিযানের সময় সেলুনের ব্যবস্থাপক বিজয় শীল প্রথম আলোকে জানান, গত ১ আগস্ট একজন গ্রাহকের কাছ থেকে চুল কাটা, শেভ ও মুখ-ঘাড়ে ফেসিয়ালের জন্য মোট ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। তাঁর দেওয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এর মধ্যে ফেসিয়ালের জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা, চুল কাটা ও শেভের জন্য ৪০০ টাকা এবং অবশিষ্ট ১০০ টাকা টিপস হিসেবে রাখা হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, ফেসিয়ালে দামি ধরনের ক্রিম ব্যবহার করা হয়েছিল বলেই বিলের পরিমাণ বেশি হয়েছিল।
কিন্তু জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল ইমরান বলেন, কোনো সেবার মূল্য পূর্বে নির্ধারণ করে তা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন না করে ভোক্তার কাছ থেকে ইচ্ছেমতো মূল্য আদায় করা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় সেলুনটির মালিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে সব সেবার মূল্যতালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি না করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
ফারুক আহমেদ জানান, সেলুনে বিলের বিষয়টি তাঁর কাছে অস্বাভাবিক মনে হওয়াতেই তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হন। তাঁর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালিত এই অভিযানে অনিয়মের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিকারও নিশ্চিত হয়।




