চার সন্তানের মা ও এক নাতির দাদি অ্যাশলি পলসন সম্প্রতি ইতিহাস তৈরি করেছেন। ম্যাসাচুসেটসের বোস্টন ম্যারাথন এক্সপোতে গত ১৮ এপ্রিল ট্রেডমিলে ১০০ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করতে তাঁর সময় লেগেছে মাত্র ১২ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট ১০ সেকেন্ড। এর মাধ্যমে নারীদের মধ্যে ট্রেডমিলে দ্রুততম ১০০ মাইল দৌড়ের নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্থাপন করেছেন তিনি। এর আগের রেকর্ডের চেয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা কম সময়ে এই দূরত্ব পাড়ি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
পেশায় ফিটনেস প্রশিক্ষক ও আলট্রাম্যারাথন দৌড়বিদ অ্যাশলি সামাজিক মাধ্যমে বেশ পরিচিত মুখ। তাঁর লাখ লাখ অনুসারী রয়েছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে তিনি জানিয়েছেন, বেশ কয়েক বছর ধরে এই রেকর্ড ভাঙার পরিকল্পনা করছিলেন। রাস্তার রেসে তাঁর গতি ট্রেডমিলের আগের রেকর্ডের চেয়ে ভালো ছিল, তাই তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তবে ট্রেডমিলে দৌড়ানো যে সহজ নয়, তা-ও জানিয়েছেন তিনি।
এই চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে অ্যাশলি বলেন, ট্রেডমিলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভূখণ্ডের বৈচিত্র্য না থাকা। ডানে-বাঁয়ে বা উঁচু-নিচু পথে ঘোরার সুযোগ নেই বলে নির্দিষ্ট পেশিতে প্রচণ্ড ক্লান্তি চলে আসে। তবুও তিনি নিয়ম মেনে দৌড়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী ট্রেডমিলে দৌড়ের সময় ছোট বিরতি নেওয়ার সুযোগ থাকলেও ঘড়ির কাঁটা থামানো যেত না। তাই বাথরুমের প্রয়োজনে কিছু ছোট বিরতি ছাড়া পুরো সময়ই তাঁকে দৌড়ে যেতে হয়েছে।
রেকর্ড গড়ার এই দীর্ঘ পথে দর্শক ও ভক্তদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। অ্যাশলির নিয়ন রঙের চুলের সঙ্গে মিলিয়ে গোলাপি পরচুলা পরে তাঁর সমর্থনে উপস্থিত ছিলেন অনেকেই। তবে সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তটি ছিল তাঁর এক ছেলের তৈরি। সে আইপ্যাডে ফেসটাইমের মাধ্যমে অন্য ভাই-বোনদের মায়ের রেকর্ড ভাঙার মুহূর্তটি দেখাচ্ছিল।
উল্লেখ্য, ১৪০টির বেশি ম্যারাথন শেষ করেছেন অ্যাশলি। ২০২৩ সালে কঠিনতম ‘ব্যাডওয়াটার ১৩৫ আলট্রাম্যারাথনে’ নারীদের মধ্যে দ্রুততম সময়ের রেকর্ডও গড়েছিলেন তিনি। সেই রেসে ডেথ ভ্যালি থেকে শুরু করে ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে দৌড়াতে হয়েছিল তাঁকে। নতুন রেকর্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যা আগে কেউ করেনি তা করতে পারাটা সবসময়ই দারুণ। তবে নিজের সন্তান ও নাতিকে দেখাতে পেরে সবচেয়ে ভালো লাগছে যে, চাইলে বড় স্বপ্ন দেখা যায় এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তা অর্জন করা সম্ভব। সবাইকে তাঁর বার্তা—কঠোর পরিশ্রম করুন, ধারাবাহিক থাকুন এবং আরও বড় স্বপ্ন দেখুন।




