বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি কেপ ভার্দের অর্থনীতি নিয়ে তাদের ‘কান্ট্রি ইকোনমিক আপডেট ২০২৬’ প্রকাশ করেছে। এতে দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু কাঠামোগত দুর্বলতার দিকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, গত বছর কেপ ভার্দের জিডিপি বেড়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে পর্যটন খাতে রেকর্ডসংখ্যক আগমন, ব্যক্তিগত খরচ বৃদ্ধি এবং উন্নত রাজস্ব ব্যবস্থাপনা। তবে বিশ্বব্যাংক স্পষ্ট করে বলেছে, পর্যটনের ওপর অত্যধিক নির্ভরতা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুর্বলতা এবং দ্বীপগুলোর মধ্যে অপর্যাপ্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়ে গেছে।
এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলে আলোচিত এই ক্ষুদ্র দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ছয় লাখের কিছু বেশি। দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে গেলেও তাদের এই সাফল্য বিশ্ব দরবারে কেপ ভার্দের পরিচয় বদলে দিয়েছে। এখন সেই অর্জনের ধারাবাহিকতায় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে চায় দেশটি। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে কেপ ভার্দের মূল্যস্ফীতি সামান্য বেড়ে ২ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছালেও দারিদ্র্যের হার কমে ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৫১ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে। শ্রমবাজারেও উন্নতি দেখা গেছে; বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশে। তবে তরুণদের মধ্যে এই হার এখনো ১৫ শতাংশের উপরে রয়েছে, যা উদ্বেগের বিষয়।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে ৯৭ কোটি ৫০ লাখ ইউরো হয়েছে। এই অঙ্ক দেশটির সম্ভাব্য আমদানি ব্যয়ের সাত মাসের সমান। অপরদিকে রাজস্ব আয় আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় ২০০৭ সালের পর প্রথমবারের মতো সরকারি বাজেট উদ্বৃত্ত অর্জনে সক্ষম হয়েছে কেপ ভার্দে। ভবিষ্যতের কথা বলতে গিয়ে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কারণে ২০২৬ সালে দেশটির প্রবৃদ্ধি কিছুটা মন্থর হয়ে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে। তবে মধ্য মেয়াদে তা পুনরুদ্ধার হয়ে প্রায় ৫ দশমিক ১ শতাংশে স্থিতিশীল হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের কেপ ভার্দে আবাসিক প্রতিনিধি ইন্দিরা কাম্পোস মন্তব্য করেছেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও বেসরকারি খাতের গতিশীলতা একসঙ্গে কাজ করলে কী অর্জন সম্ভব তা কেপ ভার্দে দেখিয়েছে। তার মতে, এখন সবচেয়ে জরুরি হলো পর্যটননির্ভর পুনরুদ্ধারকে আরও বিস্তৃত ও টেকসই প্রবৃদ্ধিতে রূপান্তরিত করা। এর জন্য দ্বীপগুলোর মধ্যে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, যোগাযোগ উন্নত হলে ব্যয় কমবে, বাজারগুলো সংযুক্ত হবে এবং সব দ্বীপের মানুষ প্রবৃদ্ধির সুফল ভোগ করতে পারবেন।
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কেপ ভার্দের অভ্যন্তরীণ বিমান ও নৌপরিবহন ব্যবস্থা অত্যন্ত ব্য�়বহুল হওয়ায় তা অর্থনৈতিক সংযোগ ও পর্যটন খাতের বৈচিত্র্যের পথে বড় বাধা। এই সীমাবদ্ধতার ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। বিশেষ করে তরুণ, নারী এবং পর্যটনকেন্দ্রিক উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে থাকা দ্বীপগুলোর শ্রমিকরা তুলনামূলকভাবে কম সুফল পাচ্ছেন। দারিদ্র্য ও বেকারত্ব কমাতে হলে দ্বীপগুলোর সংযোগ স্থাপনকে সহজ ও সুলভ করার ওপর জোর দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

