পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ বুধবার (১৫ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শেষে লংমার্চে অংশ নেবেন শিক্ষার্থীরা। তাদের গন্তব্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের ১৩ জেলায় পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন একদল শিক্ষার্থী। বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে দুর্যোগ কাটিয়ে না ওঠা পর্যন্ত পরীক্ষা পুরোপুরি স্থগিত, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ—এসব দাবি জানানো হয় ওই কর্মসূচিতে।
এদিকে আজ সকাল ১০টায় শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের ষষ্ঠ দিনের পরীক্ষা। দেশের ৫৯ জেলায় তিন বিষয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র এবং মানবিক বিভাগের যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আরবী দ্বিতীয় পত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-২ বিষয়ের পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তবে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং ওই বোর্ডের আওতাধীন মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পাঁচ জেলার পরীক্ষা মুলতুবি রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবন জেলার ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের পরীক্ষা ইতোমধ্যে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ওই পাঁচ জেলার পরীক্ষার্থীদের আজ পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নেই। স্থগিত পরীক্ষার নতুন তারিখ পরে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে বন্যা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে নেওয়ার অক্ষমতা। তাদের অভিযোগ, দুর্যোগের মধ্যেও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ১৩ জুলাইয়ের পরীক্ষা যারা দিতে পারেননি, তাদের জন্য পুনঃপরীক্ষার দাবি নিয়েও সরব তারা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
চলমান এই পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে শিক্ষাক্ষেত্রে অস্থিরতা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সংহতি প্রকাশ করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট মহল।

