জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬-এর বিজ্ঞান বিষয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে কোষ বিভাজন সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক এই উপকরণ প্রস্তুত করেছেন মো. ফারুক হোসেন, যিনি ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চবিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক।
প্রশ্নগুলোর মধ্যে একটি ছিল নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজোম কখন সবচেয়ে খাটো ও মোটা হয়, তার ব্যাখ্যা। এর উত্তরে বলা হয়েছে, কোষ বিভাজনের মেটাফেজ ধাপে ক্রোমোজোমগুলো সবচেয়ে খাটো ও মোটা অবস্থায় থাকে। ওই ধাপে স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে ক্রোমোজোমগুলো অবস্থান করে এবং সেন্ট্রোমিয়ারের মাধ্যমে তন্তুর সঙ্গে যুক্ত থাকে, যার ফলে এরা সংকুচিত ও মোটা আকার ধারণ করে।
প্রোফেজ ও টেলোফেজ দশার মধ্যে পার্থক্য নিয়েও একটি প্রশ্ন ছিল। ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মাইটোসিসের প্রথম ধাপ প্রোফেজ এবং শেষ ধাপ টেলোফেজে ঠিক বিপরীত ধরনের পরিবর্তন ঘটে। প্রোফেজে ক্রোমোজোম থেকে পানি হ্রাস পেয়ে এরা ধীরে ধীরে খাটো ও মোটা হয়, অন্যদিকে টেলোফেজে পানি শোষণের ফলে ক্রোমোজোমগুলো প্রসারিত হয়ে সরু ও লম্বা হয়। এছাড়া প্রোফেজে নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার মেমব্রেন বিলুপ্ত হয়, কিন্তু টেলোফেজে পুনরায় এদের আবির্ভাব ঘটে।
মাইটোসিস ও মিয়োসিস বিভাজনের মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য উল্লেখ করা হয়েছে। মাইটোসিস সাধারণত জীবের দৈহিক কোষে ঘটে এবং এতে একটি মাতৃকোষ বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষ তৈরি হয়। অপরদিকে মিয়োসিস ঘটে জীবের জনন মাতৃকোষে, যেখানে একটি মাতৃকোষ বিভক্ত হয়ে চারটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। এই পার্থক্যগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য অধ্যায়টি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিষয়ে ভালো ফল করতে চাইলে এই অধ্যায়ের ধারণাগুলো স্পষ্টভাবে আয়ত্ত করা জরুরি। শিক্ষক মো. ফারুক হোসেনের তৈরি এই প্রশ্নোত্তর শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

