বিশ্বকাপ ফাইনাল শুধু মাঠের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও চূড়ান্ত ফলাফলের জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে না, বরং অদ্ভুত ও হাস্যকর কিছু মুহূর্তও সমানভাবে আলোচিত হয়েছে। ঘটনাগুলো ইন্টারনেটে তড়িঘড়ি ছড়িয়ে পড়ে এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। স্পেন দলের জয় উদযাপন থেকে শুরু করে হাফটাইম শো—সব মিলিয়ে ফাইনালটি নানা মাত্রা পেয়েছে। চলুন তেমনই পাঁচটি ভাইরাল মুহূর্তের বিশদ বিবরণে চোখ রাখা যাক।

স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়ার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে সাড়া ফেলেছে। সেখানে দেখা যায়, তিনি বিশ্বকাপ ট্রফি একটি সাধারণ সাদা পলিথিন ব্যাগে করে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে এটি আসল ট্রফি নয়, বিশ্বকাপ ট্রফির একটি রেপ্লিকা। তবু এতটা নৈমিত্তিকভাবে এমন প্রতীকী বস্তু বহন করার দৃশ্য সহজেই আলোচনার শীর্ষে ওঠে।

এরপর নজর কেড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতি। স্পেনের দল বিশ্বকাপ জয়ের পর মঞ্চে সেলিব্রেশন করছিল, তখন ট্রাম্প সেখানে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যানটিনো তাকে সরানোর বিনীত চেষ্টা করেন কিন্তু প্রথমে সফল হননি। ফলে দলের গ্রুপ ছবিতে ট্রাম্পের অনভিপ্রেত উপস্থিতি দেখা গেছে। পরে তিনি নিজেই সরে দাঁড়ান।

হাফটাইম শোর মঞ্চেও ছিল লোভনীয় চমক। পপ সম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা তাঁর গাড়ি নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন। সেখানে গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও, আর পাশের আসনে ছিলেন রোনালদিনহো। মাঠে নামার পর ম্যাডোনা এবং এই দুই ফুটবল তারকা দর্শকদের জন্য দারুণ এক পরিবেশনা উপহার দেন। পুরো বিশ্বকাপজুড়েই নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়ে আসা এই জুটি ফাইনালেও ছিলেন আলোচিত।

রেফারির একটি অপ্রত্যাশিত ভুলও ভাইরাল হয়েছে। স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ ফ্রি কিকের দাগ আঁকার জন্য ব্যবহৃত স্নো স্প্রে ভুলবশত স্পেনের মিডফিল্ডার অ্যালেক্স বায়নার মুখে ছিটিয়ে দেন। এটি কোনো বিপজ্জনক কিছু ছিল না, কারণ স্প্রে মিলিয়ে যেতে পারে মুহূর্তের মধ্যে। কিন্তু দর্শকদের কাছে কৌতূহলোদ্দীপক মনে হওয়ায় ঘটনাটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালের ছোট ভাই কেইন ইয়ামালের কার্যকলাপও মাঠের অন্যতম মধুর মুহূর্ত হিসেবে গণ্য হয়েছে। এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা কঠিন দায়িত্ব পালনের সময় কেইনের চঞ্চলতা ও হাসি দেখে গলে যান। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের ক্যাপটি কেইনের মাথায় পরিয়ে দেন। এই ছোট্ট আনন্দঘন ঘটনাটি ফুটবলের বন্ধন ও মানবিকতার অনুপম উদাহরণ হয়ে থাকে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রতিটি মজার ও অদ্ভুত মুহূর্ত দর্শকদের কাছে স্মরণীয় করে তুলেছে। ফুটবলের জয়গান আর এই হালকা অথচ আকর্ষণীয় ঘটনাগুলো মিলে ফাইনালটি সম্পূর্ণ এক অসাধারণ মাহেন্দ্রক্ষণে পরিণত হয়েছে। নেটিজেনদের মধ্যে এসব নিয়ে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।