কাতালান ক্লাব বার্সেলোনার আক্রমণভাগে নতুন মুখ যোগ করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি দলটি তাদের প্রধান স্ট্রাইকার রবার্ট লেওয়ানদোস্কিকে হারিয়েছে, যিনি শিকাগো ফায়ারে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি ফেরান টরেসের প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনে (পিএসজি) যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত হয়ে উঠেছে। পিএসজি ৫ কোটি ইউরো নির্ধারিত অর্থের পাশাপাশি আরও ৫০ লাখ ইউরো বোনাসসহ মোট ৫ কোটি ৫০ লাখ ইউরো দিতে প্রস্তুত; এই অঙ্ক বার্সেলোনা যে পরিমাণ ম্যানচেস্টার সিটি থেকে টরেসকে কিনেছিল, তার সঙ্গে মিলে যায়। টরেস স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী গোলের স্কোরার হিসেবে পরিচিত। ফলে সামনের মৌসুমের জন্য একজন নির্ভরযোগ্য গোলস্কোরার খোঁজা ক্লাবটির জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডেকো ও কোচ হান্সি ফ্লিকের প্রথম পছন্দ হিসেবে উঠে এসেছেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের জুলিয়ান আলভারেজ। আর্জেন্টাইন এই ফরোয়ার্ড নিজেও বার্সেলোনায় যোগ দিতে রাজি ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে স্প্যানিশ রাজধানীর ক্লাবটি তাকে ছাড়তে একেবারেই অনিচ্ছুক। সম্প্রতি বার্সেলোনার পক্ষ থেকে ১০ কোটি ইউরোর একটি প্রস্তাব দেওয়া হলেও অ্যাটলেটিকো তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্লাবটির অবস্থান স্পষ্ট—তারা কোনোভাবেই এই তারকাকে বার্সেলোনার হাতে তুলে দেবে না।

প্রাথমিক লক্ষ্য ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখে বার্সেলোনা একটি বিকল্প পরিকল্পনায় এগিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জিজান্তেস ও স্পোর্তের বরাতে জানা যায়, ভিয়ারিয়ালের জর্জিয়ান স্ট্রাইকার জর্জেস মিকাউতাদজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তিনি কাতালানদের দলে যোগ দিতে সম্মতি জানিয়েছেন। ডেকোর পক্ষ থেকে তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা সফল হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। মিকাউতাদজে লেওয়ানদোস্কির বিদায় ও টরেসের সম্ভাব্য প্রস্থানের পর বার্সেলোনা যে ধরনের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় খুঁজছে, তার সঙ্গে মানানসই বলে মনে করা হচ্ছে।

মিকাউতাদজে আলভারেজের তুলনায় অনেক কম ব্যয়ে পাওয়া যেতে পারে। তার বর্তমান বাজারমূল্য ৬ থেকে ৬ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর মধ্যে বলে মনে করা হচ্ছে। গত মৌসুমে তিনি ৩২টি ম্যাচে ১৩টি গোল করেছেন, যা তার মূল্যমান বৃদ্ধি করেছে। অন্যদিকে, ভিয়ারিয়াল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে লিওঁ থেকে তাকে ৩ কোটি ১০ লাখ ইউরো ও অতিরিক্ত ৫০ লাখ ইউরো ভেরিয়েবলে কিনেছিল। এখন তার দাম বেড়েছে, তবু তিনি আলভারেজের চেয়ে সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

তবে ডেকো ও ফ্লিকের প্রথম পছন্দ এখনও আলভারেজই রয়ে গেছেন। মিকাউতাদজে দ্বিতীয় সারির বিকল্প হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া বিকল্প তালিকায় ইন্টার মিলানের লাউতারো মার্তিনেজের নামও উঠে এসেছে। ফলে বার্সেলোনা একাধিক দিক থেকে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে।

আলভারেজের বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু উন্নয়নের প্রত্যাশা ছিল। তিনি প্রি-সিজনে রিপোর্ট করে অ্যাটলেটিকো কোচ ডিয়েগো সিমিওনের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন। কিন্তু সিউল থেকে দেওয়া মন্তব্যে সিমিওনে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মাদ্রিদের ক্লাবটি তাদের অবস্থানে অটল। বার্সেলোনার কাছে বিক্রি করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। এই দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তার মাঝে কিছু বার্সেলোনা সমর্থক প্রশ্ন তুলছেন—ক্লাবটি কখন আলভারেজের পেছনে ছোটাছুটি বন্ধ করে অন্য দিকে মনোযোগ দেবে? তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কাতালানরা তাদের স্ট্রাইকার সংকট মেটাতে মিকাউতাদজের দিকে হাত বাড়িয়েছে, যদিও মূল লক্ষ্য এখনও অর্জিত হয়নি।