২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের খেতাব পাওয়া রদ্রিকে নিয়ে এবার স্পেনের দুই জায়ান্ট ক্লাবের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। জন্মগতভাবে মাদ্রিদের হলেও, ফুটবলার হিসেবে বেড়ে ওঠা আতলেতিকো মাদ্রিদে। তবে এখন তাঁর সামনে ফেরার সম্ভাবনা দুটি পথ — হয় রিয়াল মাদ্রিদ, নয়তো বার্সেলোনা। কোন জার্সিতে তিনি মাঠে নামবেন, তা নিয়েই এখন সব আলোচনা।
মাঠে দৃশ্যত নীরব থাকা এই খেলোয়াড়কে একসময় 'অকার্যকর' বলেই মনে হতো। ড্রিবলিং বা বল নিয়ে চোখ ধাঁধানো কসরত না করলেও, তিনি যেভাবে নীরবে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন, তা তাকে পেপ গার্দিওলার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অস্ত্রে পরিণত করেছিল। আতলেতিকো থেকে তাঁকে সিটিতে এনে গার্দিওলা দলকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেন। তাঁর গুরুত্ব বোঝা যায় ২০২০-২১ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল থেকেই, যেখানে তাঁকে বাদ দিয়ে দল সাজানো হয়েছিল এবং সেই ম্যাচেই হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছিল। এরপর আর কখনো তাকে বাদ দেননি গার্দিওলা। ২০২৩ সালের ফাইনালে তাঁর একমাত্র গোলে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতে ম্যানচেস্টার সিটি। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় তিনি জিতে নেন ব্যালন ডি’অর।
স্পেন জাতীয় দলেও তিনি সমান গুরুত্বপূর্ণ। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে ইউরো ও নেশনস লিগ জয়ে তিনি ছিলেন অন্যতম কারিগর। আর বিশ্বকাপে তো তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। অধিনায়ক হিসেবে মাঝমাঠ এতটা শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন যে, ফ্রান্স বা আর্জেন্টিনার মতো দলগুলোও গোল করার সুযোগ পায়নি। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের বিপক্ষে প্রতিপক্ষ মাত্র একটি গোল করেছিল।
রদ্রিকে দলে পেতে প্রথমে এগিয়ে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। টনি ক্রুসের বিদায়ের পর তাদের মাঝমাঠে একজন কন্ট্রোলারের অভাব প্রকট। তবে ২০২৪ সালে ব্যালন ডি’অর জেতার পর রদ্রির সঙ্গে রিয়ালের সম্পর্ক তেমন মধুর ছিল না। সময়ের ব্যবধানে সেই সম্পর্কে উন্নতি হয়েছে। অন্যদিকে, রিয়াল ভিনিসিয়ুসের চুক্তি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় রদ্রির দিকে তেমন মনোযোগ দিতে পারেনি। দলে জায়গাও সংকুচিত।
রদ্রির নজর এখন বার্সেলোনার দিকে। স্পেন দলের তাঁর সতীর্থদের অনেকেই বার্সায় খেলেন। রদ্রির মতো খেলোয়াড় বার্সায় থাকলেও, বিশ্বসেরাকে হাতছাড়া করতে চায় না তারা। সিটির কাছে প্রস্তাব দিলেও প্রথম দফায় তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ম্যানচেস্টার ক্লাবটি রদ্রির জন্য চাইছে কমপক্ষে ৬০ মিলিয়ন ইউরো।
মজার ব্যাপার হলো, রদ্রিকে ছাড়ার জন্য সিটি নিজেদের প্রস্তুতও করে ফেলেছে। নটিংহাম ফরেস্ট থেকে ১৩৫ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে আনা হয়েছে। মরক্কোর তরুণ আইয়ুব বুয়াদ্দিকেও আনার চেষ্টা চলছে। ফলে রদ্রিকে বিক্রি করে সর্বোচ্চ অর্থ আদায়ই এখন তাদের লক্ষ্য। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কে এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে নিজেদের করে নেয়।




